রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এসআইআর নিয়ে মতুয়া গড়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, নতুন রেল প্রকল্পের মাধ্যমে তার অনেকটাই প্রশমনের চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 30 January 2026 21:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের মুখে জনমুখী প্রকল্পকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে শাসক তৃণমূল। ঠিক সেই সময়ই বাংলায় একের পর এক রেল প্রকল্পে সবুজ সঙ্কেত দিল কেন্দ্র। বন্দে ভারত স্লিপারের পর এ বার চারটি নতুন রেললাইনের অনুমোদন (Clearance for four more railway projects)—আর সবক’টিই মতুয়া গড়কে ছুঁয়ে যাচ্ছে (Matua vote in focus)। রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, ভোটের আগে কি রেলকেই প্রচারের হাতিয়ার করছে বিজেপি?
রেলমন্ত্রক (Railway Ministry) সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন যে রেললাইনগুলির ছাড়পত্র মিলেছে, তার মধ্যে রয়েছে বনগাঁ–পোড়ামহেশতলা (২০ কিমি), বনগাঁ–চাঁদা বাজার (১১.৫ কিমি), চাঁদা বাজার–বাগদা (১৩.৮ কিমি) এবং রানাঘাট (আড়ংঘাটা)–দত্তফুলিয়া (৮.১৭ কিমি)। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন এই এলাকাগুলিতে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করাই সরকারি ব্যাখ্যা। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রশ্নে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা এখনও পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ভোটের ঠিক আগে সেই ইস্যুতে তৃণমূল যখন বিজেপিকে লাগাতার আক্রমণ করছে, তখন এই রেল প্রকল্পগুলির অনুমোদন রাজনৈতিক তাৎপর্য এড়াতে পারছে না।
উল্লেখ্য, গত বছর ঠাকুরবাড়ির মেলা উৎসবে বনগাঁর সাংসদ তথা ঠাকুরবাড়ির সদস্য শান্তনু ঠাকুর এই রেললাইনগুলির আশ্বাস দিয়েছিলেন। এ বার সেই প্রতিশ্রুতিই বাস্তবের পথে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এসআইআর নিয়ে মতুয়া গড়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল, নতুন রেল প্রকল্পের মাধ্যমে তার অনেকটাই প্রশমনের চেষ্টা করছে গেরুয়া শিবির।
শুধু অনুমোদনেই থেমে থাকছে না কেন্দ্র। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব রেলবোর্ড ও পূর্ব রেলকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে—কোনও প্রকল্পই ঝুলিয়ে রাখা যাবে না। তাঁর বক্তব্য, এই রেললাইনগুলি বনগাঁ ও নদিয়ার সীমান্ত এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে যেমন গতি দেবে, তেমনই মতুয়া গড়ের বাসিন্দাদের যাতায়াতে খুলে দেবে নতুন দিগন্ত।
সব মিলিয়ে ভোটমুখী বাংলায়, এসআইআর বিতর্কের আবহে এই রেল ডালি গেরুয়া শিবিরকে কতটা অক্সিজেন জোগাবে—সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।