আর একটি মা যেন সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রাণ না হারান।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 27 August 2025 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার প্রসূতি মৃত্যু (Maternal Mortality)। আর এবার আর চুপ করে বসে থাকেনি রাজ্য। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল (Strict Step) স্বাস্থ্য দফতর। রাজ্যজুড়ে সব সরকারি হাসপাতাল, গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, এমনকি ব্লক লেভেলের ডেলিভারি পয়েন্টগুলিতেও পৌঁছে দেওয়া হল নতুন ফ্লুইড গাইডলাইন (New guidelines Issued)। কারণ একটাই, আর একটি মা যেন সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে প্রাণ না হারান।
গত জানুয়ারি মাসে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে মামণি রুইদাসের মৃত্যু এবং আরও ছ'জন প্রসূতির অসুস্থ হয়ে পড়া রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। অভিযোগ ওঠে, রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের গুণমান খারাপ ছিল। এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগও সামনে আসে। ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হয় প্রবল বিতর্ক। এরপরই কড়া হাতে হাল ধরার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্যভবন।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জারি হওয়া নতুন গাইডলাইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে—
সিজারিয়ানের পর রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে যে স্যালাইন ব্যবহার করা হয়, তা নির্দিষ্ট মাত্রায় ও নির্ধারিত সময়ে দিতে হবে।
অতিরিক্ত স্যালাইন শরীরে প্রবেশ করলে হতে পারে কিডনি বিকল বা অ্যানিমিয়ার মতো জটিলতা।
ক্রিস্টালয়েড সলিউশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোটোকল মানা বাধ্যতামূলক।
গাইডলাইন মেনে না চললে যে বড় বিপদ ঘটতে পারে, তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে নির্দেশিকায়।
চিকিৎসক মহলের মতে, এমন নির্দেশিকা অনেক দিন আগেই জারি হওয়া উচিত ছিল। একজন অভিজ্ঞ স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের মন্তব্য, “গাইডলাইন মানা তো বটেই, তার আগে দরকার স্যালাইনের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ।”
প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্য একাধিক কড়া পদক্ষেপও করেছে। ১৩ জনের সাসপেনশন—তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন জুনিয়র ডাক্তার, বাকিরা নার্স ও টেকনিশিয়ান।
স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে রাজ্যের মূল লক্ষ্য— “প্রতিটি মাতৃত্ব যেন নিরাপদ হয়”। স্যালাইন নিয়ে আগাম সতর্কতাই এবার মৃত্যুর মিছিল থামাতে পারে কি না, এখন তাকিয়ে সেদিকেই।