উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী এলাকায় স্ত্রী ও চার বছরের কন্যাকে খুন করে নিজেই আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক যুবক। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত মা ও শিশু। গুরুতর আহত স্বামী হাসপাতালে ভর্তি।

উত্তরপাড়ায় নৃশংস কাণ্ড।
শেষ আপডেট: 11 June 2025 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপাড়ার ভদ্রকালী এলাকায় মর্মান্তিক ঘটনা। বুধবার সকালে এক বাড়ি থেকে এক মহিলা ও শিশুকন্যার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। গৃহকর্তা গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, পারিবারিক অশান্তির জেরেই ঘটেছে এই মর্মান্তিক কাণ্ড।
ঘটনাটি ঘটেছে হিন্দমোটরের ভদ্রকালী এলাকার একটি আবাসনে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী, বুধবার ভোরে ওই বাড়ি থেকে অস্বাভাবিক নীরবতা ও পরে রক্তের চিহ্ন দেখতে পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ ঘরের ভিতর থেকে উদ্ধার করে এক মহিলা ও শিশুর নিথর দেহ। তাঁদের গলা ও শরীরের একাধিক অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। সঙ্গে পাওয়া যায় গৃহকর্তা কাশীনাথ চ্যাটার্জিকে। তিনি তখনও জীবিত থাকলেও গুরুতর জখম অবস্থায় ছিলেন।
মৃতদের নাম পায়েল চ্যাটার্জি (২৫) ও তাঁর চার বছরের কন্যা অদ্রিতা চ্যাটার্জি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘরে পড়ে থাকা ফল কাটার ছুরিই ছিল হামলার অস্ত্র। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, পায়েলের স্বামী কাশীনাথই স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যা করে পরে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁকে প্রথমে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত কলকাতা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
কাশীনাথ একটি বেসরকারি কারখানায় কর্মরত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। প্রতিবেশীদের অনেকেই জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁদের পরিবারে অশান্তি চলছিল। পুলিশের অনুমান, সেই অশান্তির থেকেই এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন কাশীনাথ।
যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনা আত্মহত্যা প্ররোচনা নাকি পরিকল্পিত খুন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। চন্দননগর কমিশনারেটের অধীনে থাকা তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই ফরেনসিক দলকে ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠিয়েছে। ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোকস্তব্ধ গোটা এলাকা। স্থানীয়রা জানান, পায়েল ও কাশীনাথকে বাইরে থেকে ‘স্বাভাবিক’ দম্পতিই মনে হতো। অদ্রিতা ছিল সবার খুব প্রিয়। এমন নৃশংস ঘটনায় তাঁদের কল্পনাও ছিল না।
ঘটনার তদন্ত চলছে। কাশীনাথের জ্ঞান ফিরলে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুরো ঘটনার মূল কারণ জানতে পারবে বলে আশাবাদী।