রবিবার বিকেল ৪টেয় পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা (West Bengal Election date) করবে নির্বাচন কমিশন। তার আগে একই দিনে ৩ ধরনের ভাতা নিয়ে বেনজির তৎপরতা দেখা গেল রাজ্যের সচিবালয় তথা নবান্নে। এদিনের মধ্যে বেকার ভাতার টাকা ৫৪ লক্ষ যুবক যুবতীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রেখেছিল নবান্ন।

শেষ আপডেট: 15 March 2026 15:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার বিকেল ৪টেয় পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা (West Bengal Election date) করবে নির্বাচন কমিশন। তার আগে একই দিনে ৩ ধরনের ভাতা নিয়ে বেনজির তৎপরতা দেখা গেল রাজ্যের সচিবালয় তথা নবান্নে। এদিনের মধ্যে বেকার ভাতার টাকা ৫৪ লক্ষ যুবক যুবতীর অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রেখেছিল নবান্ন। একদিকে সেই তোড়জোড় চলছিলই। বিকেল ৩টে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) হঠাৎই সবাইকে চমকে দিয়ে পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের ভাতা ৫০০ টাকা করে বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেন। তার পর পরই তিনি বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মার্চের মাসের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
বাংলা তথা প্রায় সব রাজ্যেই এখন ভোটের উপর ভাতার প্রভাব বড় হয়ে উঠেছে। সদ্য বিহার নির্বাচনে দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন এনডিএ ভোটের আগে ১ কোটি ২০ লক্ষ মহিলাকে রাতারাতি ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দিয়েছেন। বিহার ভোটে বিজেপি ও সংযুক্ত জনতার স্যুইপ করার নেপথ্যে সেটাই বড় কারণ ছিল বলে মনে করা হয়।
বিহার ও বাংলা লাগোয়া। তা হলে ভোটের রসায়ন ও দর্শন যে এক তা নয়। কিন্তু একেবারেই যে আলাদা তা মনে করার কারণ নেই। রবিবাসরীয় দুপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে একদিনে তিন ভাতার তৎপরতা দেখালেন তার মধ্যে খেলা ঘোরানোর চেষ্টাই নজরে পড়ছে অনেকের। বাংলায় একটানা ১৫ বছর ধরে চলছে তাঁর সরকার। ফলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে বিপুল প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা থাকা স্বাভাবিক। বোঝা যাচ্ছে যে, এই ভোটে ভাতার উপভোক্তাদের উপর বড় রকমের ভরসা করছে তৃণমূল।
রবিবার সমাজ মাধ্যমে পোস্ট করে মমতা জানিয়েছেন, পুরোহিত এবং মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে তাঁরা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে সাম্মানিক ভাতা পাবেন।মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, সমাজের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বন্ধন বজায় রাখতে এই মানুষগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবিকে মর্যাদা দিতেই ভাতার এই বর্ধিত হার অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
তিনি আরও জানিয়েছেন, রাজ্যের যে সকল পুরোহিত ও মোয়াজ্জিন এই সাম্মানিকের জন্য নতুন করে আবেদন জমা দিয়েছিলেন, তাও মঞ্জুর করেছে সরকার। অর্থাৎ আরও বেশি পুরোহিত ও মোয়াজ্জিন এবার ভাতা পাবেন।
পুরোহিতদের ভাতা বাড়ানো নিয়ে ঘোর কাটার আগেই মমতা পরের টুইট করেন। তাতে তিনি ঘোষণা করেন, “রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগী, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা, অন্যান্য স্থানীয় সংস্থা ও বিভিন্ন অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও পেনশনভোগীরা এবার বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ টাকা পাবেন।
অর্থ দফতর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে যে পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে তারা ROPA 2009-এর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) পাওয়া শুরু করবেন।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার তথা শাসক দলের লক্ষ্য পরিষ্কার। রাজ্যের মোট ভোটারের অন্তত ৫০ শতাংশকে ভাতা বা উপভোক্তাদের তালিকায় নিয়ে আসা। এর মধ্যে যদি ৭০ শতাংশও শাসক দলের অনুকূলে ভোট দেয়, তাহলেই ফের কেল্লা ফতে হতে পারে।