রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানিয়েছেন, পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 15 March 2026 15:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণার (West Bengal Election Date) আর মাত্র কয়েক মিনিট বাকি। তার আগে পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের জন্য সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান জানিয়েছেন, পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে তাঁরা প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে সাম্মানিক ভাতা পাবেন।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, সমাজের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক বন্ধন বজায় রাখতে এই মানুষগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবিকে মর্যাদা দিতেই ভাতার এই বর্ধিত হার অবিলম্বে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
নতুন আবেদনেও ছাড়পত্র
কেবল ভাতা বৃদ্ধিই নয়, নতুন আবেদনকারীদের জন্যও খুশির খবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের যে সমস্ত পুরোহিত ও মোয়াজ্জিন এই সাম্মানিক ভাতার জন্য নতুন করে যথাযথভাবে আবেদন জমা দিয়েছিলেন, রাজ্য সরকার সেই সমস্ত আবেদন মঞ্জুর করেছে। এর ফলে আরও বহু মানুষ সরকারি সহায়তার আওতায় চলে এলেন।
‘সকলের পাশে সরকার’
নিজের ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমাদের রাজ্যে প্রতিটি ধর্ম ও ঐতিহ্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলার সমৃদ্ধ আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে যাঁরা রক্ষা করে চলেছেন, তাঁদের প্রাপ্য স্বীকৃতি ও সহায়তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
অন্যদিকে, ভোট ঘোষণার ঠিক আগে রাজ্যে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে (Yuav Sathi) সমস্ত আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টেও টাকা পাঠিয়ে দিতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, রবিবার বিকেলের মধ্যেই রাজ্যের ৫৪ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ, পকেটে ভাতার টাকা নিয়েই এ বার ভোট দিতে যাবেন রাজ্যের প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে এই প্রকল্পের জন্য মোট ৭৪ লক্ষ আবেদন (Yuva Sathi Satus) জমা পড়েছিল। নবান্নের আধিকারিকরা সেই পাহাড়প্রমাণ আবেদন যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েক লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। জোড়া প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলে সেই আবেদনগুলি বাতিল করা হয়। ছাঁটকাট শেষে দেখা যায়, ৫৪ লক্ষ যুবক-যুবতী এই ভাতার জন্য যোগ্য।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার খানিকক্ষণ আগে সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের একটা বড় অংশের মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার অন্যতম হাতিয়ার। এর আগে ২০২৩ সালেও ইমাম, মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতা ৫০০ টাকা করে বৃদ্ধি করেছিল নবান্ন। এবার নতুন আবেদন মঞ্জুর এবং মোয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতার সমতা বজায় রাখার এই পদক্ষেপকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।