নবান্ন সূত্রের খবর, রবিবার বিকেলের মধ্যেই রাজ্যের ৫৪ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ, পকেটে ভাতার টাকা নিয়েই এ বার ভোট দিতে যাবেন রাজ্যের প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার।

ভাতার টাকা পকেটে নিয়ে ঠিক কত লক্ষ বেকার এবার ভোট দেবেন
শেষ আপডেট: 15 March 2026 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার বিকেলে ৪টে নাগাদ নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ (West Bengal Election Date) ঘোষণা করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের ঠিক আগে রাজ্যে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পে (Yuav Sathi) সমস্ত আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিতে চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নবান্ন সূত্রের খবর, রবিবার বিকেলের মধ্যেই রাজ্যের ৫৪ লক্ষ শিক্ষিত বেকারের অ্যাকাউন্টে ১৫০০ টাকা করে পৌঁছে যাবে। অর্থাৎ, পকেটে ভাতার টাকা নিয়েই এ বার ভোট দিতে যাবেন রাজ্যের প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে এই প্রকল্পের জন্য মোট ৭৪ লক্ষ আবেদন (Yuva Sathi Satus) জমা পড়েছিল। নবান্নের আধিকারিকরা সেই পাহাড়প্রমাণ আবেদন যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েক লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। জোড়া প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলে সেই আবেদনগুলি বাতিল করা হয়। ছাঁটকাট শেষে দেখা যায়, ৫৪ লক্ষ যুবক-যুবতী এই ভাতার জন্য যোগ্য।
রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছিল, ১ এপ্রিল থেকে এই বেকার ভাতা দেওয়া শুরু হবে। পরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অগস্ট থেকে টাকা মিলবে। কিন্তু ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিনক্ষণ এগিয়ে আসতেই সিদ্ধান্ত বদল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, এপ্রিলের জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই, টাকা এখনই ছাড়তে হবে। সেই মতোই গত ৭ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে টাকা পাঠানো শুরু হয়। ৫২ লক্ষ উপভোক্তার কাছে ইতিপূর্বেই টাকা পৌঁছে গিয়েছে। এখন নবান্নের লক্ষ্য, কমিশন ভোটের দিন ঘোষণা করার আগেই বাকি ২ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকিয়ে দেওয়া। আজ সেই লক্ষ্যই পূরণ হতে চলেছে।
একুশের ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং জেতার পর তা কার্যকর করেছিলেন। কিন্তু এ বার তাঁর রণকৌশল কিছুটা আলাদা। প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের জন্য অপেক্ষা না করে, ভোট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই টাকা পৌঁছে দিতে চাইছেন উপভোক্তাদের কাছে। গত বছর লোকসভা ভোটে ঠিক এভাবেই ভোটের মধ্যে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্প খাতে বর্ধিত ভাতার টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছিল।
এখন প্রশ্ন হল, দিদির এই এক চালেই কি বিজেপির অঙ্ক ঘেঁটে যাবে?
এবারও বাংলার ভোটে তৃণমূল বিরোধিতায় দৃশ্যত বিজেপির অংশীদারিত্ব বেশি। তাদের বেশি করে মাঠে ময়দানে দেখা যাচ্ছে। তা ছাড়া মোদী-অমিত শাহরাও প্রচারে নেমে পড়েছেন। সন্দেহ নেই, বেকার ভাতার গুঁতোয় অঙ্ক ঘাঁটা শুরু করলে বিপদ অনিবার্য বাম, কংগ্রেস, নওশাদ-হুমায়ুনেরও।