সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর (Lakshmi Bhander) মতোই প্রশাসনিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে এই প্রকল্পের আবেদন নেওয়া হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 15 February 2026 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার থেকে বেকার ভাতার (Bekar Bhata Form) ক্যাম্প শুরু হয়েছে। ১ এপ্রিল চালু হতে চলা ‘যুবসাথী প্রকল্প’-এ (Yuba Saathi) আবেদনের জন্য রাজ্য জুড়ে এগারো দিনের বিশেষ শিবির বসেছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নির্ধারিত এই ভাতা প্রকল্প ঘিরে প্রথম দিনেই চোখে পড়ল লম্বা লাইন (West Bengal News)। কলকাতা থেকে মালদহ, শিলিগুড়ি— সর্বত্রই একই ছবি। স্নাতক, স্নাতকোত্তর পড়ুয়ারাও লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম তুলছেন (Bekar Bhata News)।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর (Lakshmi Bhander) মতোই প্রশাসনিক পরিকাঠামো ব্যবহার করে এই প্রকল্পের আবেদন নেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য, চাকরি না পাওয়া তরুণ-তরুণীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া। অর্থ দপ্তরের দাবি, পাঁচ বছর পর্যন্ত ভাতা দিয়ে তাঁদের ‘বুস্ট আপ’ করাই লক্ষ্য।
তবে লাইনে দাঁড়ানো অনেকের বক্তব্যে ধরা পড়ল অন্য সুর। এক তরুণীর কথায়, “কলকাতায় চাকরি নেই, অন্তত আমার ক্ষেত্রে তো নয়।” এক যুবক বলেন, “ভাতা না দিয়ে চাকরি দিলে ভাল হত।” আর এক এমএ পাশ তরুণীর বক্তব্য, “১৫০০ টাকায় কিছু হয় না। বাধ্য হয়েই এসেছি।” মালদহে এক স্নাতক স্তরের পড়ুয়া বলেন, “ভাতা সাময়িক। স্থায়ী সমাধান তো চাকরি।”
তুলনামূলকভাবে দেখা যাচ্ছে, সরকার যেখানে ভাতাকে অন্তর্বর্তী সহায়তা হিসেবে তুলে ধরছে, সেখানে আবেদনকারীদের বড় অংশই সেটিকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না। বরং চাকরির সুযোগ সৃষ্টির দাবিই জোরালো।
নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যুবদের পালস বুঝেছেন। মানুষ আসছেন, ফর্ম তুলছেন— বোঝাই যাচ্ছে প্রকল্পটি সাড়া ফেলেছে।” অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বক্তব্য, আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়েও সমালোচনা হয়েছিল, এখন বিরোধীরাই ক্ষমতায় এলে আরও বেশি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কটাক্ষ, শিল্প ও সরকারি চাকরির ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হওয়াতেই আজ ভাতার প্রয়োজন পড়ছে। তাঁর অভিযোগ, “যুবশ্রীর মতোই এ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।”
নবান্নের তরফে জারি হওয়া চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে—এই তথাকথিত বেকার ভাতা কোনওভাবেই ২০ বছরের জন্য নয়, সর্বোচ্চ মাত্র ৫ বছর পর্যন্তই মিলবে। অর্থাৎ কোনও যুবক বা যুবতী সর্বোচ্চ ৫ বছর এই ভাতা পাবেন। ২১ বছর বয়সে ভাতা পাওয়া শুরু হলে ৪০ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে না। তাছাড়া ভাতা পাওয়ার ৫ বছরের মধ্যে চাকরি পেয়ে গেলে বা কর্মসংস্থান হয়ে গেলে তাঁর জন্য ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। শুক্রবার রাতে প্রকাশিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, ভেরিফিকেশন থেকে শুরু করে ভাতা বন্ধ হওয়ার শর্ত পর্যন্ত সবই পরিষ্কার করা হয়েছে।
লোকমুখে ‘বেকার ভাতা’ (bekar bhata scheme 2026) নামে পরিচিত হলেও, সরকারি নথিতে এর নাম যুব সাথী প্রকল্প। বাজেট তথা ভোট অন অ্যাকাউন্ট ঘোষণার (৫ ফেব্রুয়ারি) পর দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে নেমেছে নবান্ন।