বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিএলএ-দের।

সুব্রত বক্সী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 19 March 2026 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভোট যুদ্ধের (West Bengal Assemly Election 2026) রণকৌশল চূড়ান্ত করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীর (Subrata Bakshi) অফিসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ ভবানীপুর বিধানসভার আটটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বিএলএ-দের। জানা গেছে, 'উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে', এই স্লোগানকে সামনে রেখেই প্রচারে নামতে চলেছে তৃণমূল।
ভবানীপুরে ক্রমশ ভোট প্রচারের পারদ চড়ছে। ইতিমধ্যেই বিজেপি মুখ্যমন্ত্রীর ওয়ার্ডে জোরদার প্রচার শুরু করেছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে দক্ষিণ কলকাতা বিজেপি নেতৃত্ব বুধবার রাত থেকেই ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডে ফ্লেক্স ও পোস্টার লাগিয়ে প্রচারে নেমেছে। হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট ও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট এলাকায় সেই প্রচার বিশেষভাবে নজরে পড়েছে—যে ওয়ার্ডেই থাকেন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর পরিবার।
প্রসঙ্গত, বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই স্পষ্ট হয়, নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী হচ্ছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই কালীঘাটের বাসভবন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীপদ ঘোষণা করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। বিজেপির আগ্রাসী প্রচারের মোকাবিলায় পাল্টা কৌশল ঠিক করতেই সুব্রত বক্সীর দফতরের এই বৈঠককে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, কাউন্সিলর কাজরী ও তাঁর স্বামী কার্তিক ইতিমধ্যেই নিজেদের উদ্যোগে এলাকায় প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, এই ওয়ার্ডে পুরনো ব্যবধান ঘোচাতে মরিয়া বিজেপি। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এখানে তৃণমূল ৪৯৬ ভোটে পিছিয়ে পড়েছিল। ২০১৯ সালেও এগিয়ে ছিল বিজেপি। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পরিস্থিতি কিছুটা বদলে প্রায় ২৩০ ভোটে এগিয়ে যায় তৃণমূল।
কলকাতা পুরসভার (Kolkata Corporation) আটটি ওয়ার্ড নিয়ে ভবানীপুর বিধানসভা (Bhawanipore)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নিজের বিধানসভা কেন্দ্র। উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যখন তিনি দার্জিলিঙে ছিলেন, তখন সেখান থেকেই মেয়র তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের ফোনে দলীয় নেতাকর্মীদের বার্তা দেন দলনেত্রী। অভিযোগ করেন, ‘‘ভবানীপুরটা পুরো ‘আউটসাইডারদের’ (বহিরাগত) দিয়ে ভরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’
প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে এসআইআরে মোট ৪৭ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৪৩ হাজার নাম বাদ যাওয়ার পরপরই দলীয় নেতা ও বিধানসভার বিএলএ এবং বিএলএ-২-দের নিয়ে নিজের বাসভবনে একাধিক বার বৈঠক করেছিলেন মমতা। এখন দেখার, এদিনের বৈঠকে ভোট প্রচারকে মাথা করে ঠিক কী কী রণকৌশল নেওয়া হয়।