আপাতত পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে প্রকল্পটি, তবে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন মমতা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির (Digha Jagannath Temple) তৈরি মমতার একপ্রকার মাস্টারস্ট্রোক।

মহাকাল মন্দির করবেন মমতা
শেষ আপডেট: 16 October 2025 23:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দার্জিলিঙের ম্যালের বিখ্যাত মহাকাল মন্দিরে (Mahakaal Temple) পুজো দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছেন, সমতলেও একটি মহাকাল মন্দির তৈরি করতে চান তিনি। শিলিগুড়ির আশপাশে সেই মন্দিরের জন্য ইতিমধ্যেই উপযুক্ত জমি খোঁজার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
আপাতত পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে প্রকল্পটি, তবে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছেন মমতা। বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির (Digha Jagannath Temple) তৈরি মমতার একপ্রকার মাস্টারস্ট্রোক। জগন্নাথের ব্যাপারে লোকজনের কাছে অজানা কিছু নেই। এবার যখন তিনি মহাকাল মন্দির তৈরির চিন্তাভাবনা করছেন, তখন কে এই মহাকাল, তা নিয়ে কয়েকজনের মধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। একটা প্রচলিত ধারণা মোটামুটি সকলেরই আছে যে মহাকাল মানেই শিব, কিন্তু বিস্তারিত ভাবে তিনি অনেকটাই অজানা।
মহাকালেশ্বর হল, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের তৃতীয় লিঙ্গ হল মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ। যা হিন্দু দেবতা শিবের একটি উজ্জ্বল জ্য়োতি রূপ ও মন্দির এবং বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। এই স্থানটি ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের উজ্জয়িনী শহরে রুদ্র সাগর হ্রদের তীরে অবস্থিত। এই মন্দিরের শিবলিঙ্গটিকে স্বয়ম্ভু বা শিবের সাক্ষাৎ-মূর্তি মনে করা হয়,তিনিই হলেন মহাকালেশ্বর।
শিব পুরাণে বর্ণিত তথ্য় অনুসারে, উজ্জয়িনী শহরটির নাম ছিল অবন্তিকা। এই শহরটিতে ছিল শিক্ষিত ধার্মিক লোকেদের বাস। দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা এখানে আসত হিন্দুশাস্ত্র শিক্ষা করতে। প্রচলিত মত অনুসারে, উজ্জয়িনীতে চন্দ্রসেন নামে এক শাসক ছিলেন। তিনি ছিলেন শিবের উপাসক। একদিন শ্রীখর নামে এক কৃষক বালক রাজার শিবের নাম জপ শুনে ছুটে মন্দিরে গিয়ে রাজার সঙ্গে প্রার্থনা শুরু করে দেয়। প্রহরীরা তাকে শহরের বাইরে শিপ্রা নদীর তীরে রেখে আসে।
উজ্জয়িনীর পার্শ্ববর্তী দুই শত্রুরাজ্যের রাজা রিপুদমন ও সিংহাদিত্য সেই সময় উজ্জয়িনীর সম্পদের লোভে উজ্জয়িনী রাজ্য়কে আক্রমণের কথা ভাবছিলেন। এই কথা শুনে শ্রীখর শিবের প্রার্থনা শুরু করে। সেই খবর পৌঁছায় বৃধি নামে এক পুরোহিতের কাছে। তিনি এই কথা শুনে ভয় পেয়ে যান এবং শিপ্রা নদীর তীরে গিয়ে শিবের কাছে প্রার্থনা শুরু করেন।
শিবের অভিশাপের বদলা নিতে ব্রহ্মা 'দূষণ' নামে এক দৈত্যকে অদৃশ্য হয়ে যাবার ক্ষমতা দিয়েছিলেন। শত্রুরাজারা রিপুদমন ও সিংহাদিত্য অসুর দূষণের সাহায্যে উজ্জয়িনী আক্রমণ করেন এবং যুদ্ধে জয় লাভ করেন। এরপরই তাঁরা উজ্জয়িনীর সকল শিবভক্তের উপর অত্যাচার শুরু করেন।
অসহায় ভক্তদের প্রার্থনা শুনে শিব মহাকালের রূপে উজ্জয়িনীতে আবির্ভূত হয়ে চন্দ্রসেনের শত্রুদের ধ্বংস করেন। শ্রীখর ও বৃধির অনুরোধে শিব উজ্জয়িনীতে বসবাস করতে রাজি হন। তিনিই হন রাজ্যের প্রধান দেবতা এবং শিবভক্তদের রক্ষাকর্তা। সেই থেকে উজ্জয়িনীতে মহাকাল রূপে শিব তার শক্তি পার্বতীকে নিয়ে বসবাস করছেন। মহাকাল হলেন দেবতা শিবের এক ভয়ঙ্কর রূপ। তিনি চার বাহু এবং তিন চোখ বিশিষ্ট। যিনি সময়, সৃষ্টি, ধ্বংস এবং শক্তির সঙ্গে যুক্ত। মৃত্যু এবং পুনর্জন্মের চক্রের উপরই তাঁর আধিপত্য।
মহাকালেশ্বরের মূর্তিটি দক্ষিণামূর্তি নামেও পরিচিত। ‘দক্ষিণামূর্তি’ শব্দের অর্থ ‘যাঁর মুখ দক্ষিণ দিকে’। এই শিবলিঙ্গের বিশেষত্ব এই যে তান্ত্রিক শিবনেত্র প্রথাটি বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে একমাত্র মহাকালেশ্বরেই দেখা যায়। দক্ষিণ দিকে শিবের বাহন নন্দীর মূর্তি স্থাপিত। মন্দিরে নাগচন্দ্রেশ্বর মূর্তি আছে। এটি একমাত্র নাগপঞ্চমীর দিন দর্শনের জন্য খুলে দেওয়া হয়। মন্দিরের শিখর বা চূড়াটি শাস্ত্রে উল্লিখিত পবিত্র বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে। এই মন্দিরের একটি স্বতন্ত্র প্রথা আছে, এই রকম প্রথা অন্য কোনও মন্দিরে দেখা যায় না।
বুধবার থেকেই মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন, ত্রাণ বিতরণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে দার্জিলিঙের ম্যাল এলাকায় মহাকাল মন্দিরে পুজো সেরে বেরিয়ে এই নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করেন তিনি।
ঘটনা হল, পুরীর মতো যখন দিঘাতেও জগন্নাথ মন্দির তৈরি করা হয়, তখনও তার নিয়ম-কানুন নিয়ে কম ঝগড়া হয়নি। অনেকেই দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে 'ধাম' বলা নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। তাছাড়া মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ নিয়েও কটাক্ষ করেছিলেন। এখন নয়া মহাকাল মন্দির নিয়ে শাসক-বিরোধী তর্জা কতদূর যায় সেটা সময়ই বলবে।