ঘটনার সূত্রপাত, গত ৩ এপ্রিল, এসএসসি দুর্নীতি মামলার রায়ে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায় নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 16 October 2025 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসির ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছিল, তাঁর সেই মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল। সেই অভিযোগ নিয়েই সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ‘আত্মদীপ’ নামে একটি সংস্থা।
কিন্তু সেই মামলা বেশি দূর এগোল না। কারণ, আদালত অবমাননার এমন মামলায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানির জন্য কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি বাধ্যতামূলক। আর সেই অনুমতিই মেলেনি। ফলে মামলা খারিজ হওয়ার আগেই তা নিজেদেরই প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হল মামলাকারী সংস্থা।
শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি বিআর গভাইয়ের বেঞ্চে থেকে আগেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, এই মামলা নিয়ে আদালত খুব একটা উৎসাহী নয়। বিচারপতিরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী এই মামলার কোনও পক্ষ নন। রাজনৈতিক যুদ্ধ আদালতে নয়, বাইরে লড়ুন।”
এতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল আদালতের মনোভাব। এরপর মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবীরা অ্যাটর্নি জেনারেলের সম্মতি চেয়ে আবেদন জানালেও সেই সম্মতিও মেলেনি।
সাধারণভাবে কোনও মামলার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ তুললে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু এখানে মমতা সরাসরি মামলার পক্ষ নন, সাংবিধানিক পদাধিকারী হিসেবে মন্তব্য করেছেন বলেই অ্যাটর্নি জেনারেলের ছাড়পত্র জরুরি ছিল।
শেষমেশ, সেই অনুমতি না পাওয়ায় আত্মদীপ সংস্থা নিজেই মামলা প্রত্যাহারের আর্জি জানায়। সুপ্রিম কোর্ট সেই আর্জি গ্রহণও করে।
ঘটনার সূত্রপাত, গত ৩ এপ্রিল, এসএসসি দুর্নীতি মামলার রায়ে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায় নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেছিলেন, “সবাইকে একসঙ্গে শাস্তি দেওয়া যায় না। এতে সাধারণ চাকরি প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।” সেই মন্তব্য ঘিরেই উঠেছিল আদালত অবমাননার অভিযোগ।