মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ধনকড়ের পদত্যাগের নেপথ্যে শুধুই কি শারীরিক কারণ, নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনও রাজনৈতিক চাপ তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জগদীপ ধনকড়
শেষ আপডেট: 22 July 2025 20:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে জগদীপ ধনকড়ের (Jagdeep Dhankad) হঠাৎ ইস্তফা (Resignation) ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে কৌতূহল, কারণ স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম কোনও উপ রাষ্ট্রপতি আচমকা পদত্যাগ করলেন। যদিও জানানো হয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার (Illness) কারণেই পদ ছেড়েছেন ধনকড়। তবে এই ব্যাখ্যায় আশ্বস্ত নন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
সোমবার নবান্নে (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠকে ধনকড়ের ইস্তফা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি এখনই এই বিষয়ে কিছু বলব না। আমাদের সংসদীয় দল আছে, ওরা বলবে। তবে আমি যতটা জানি, উনি (ধনকড়) সুস্থই আছেন। এর মধ্যে গড়বড় কিছু নিশ্চয়ই আছে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর স্বাভাবিক ভাবেই নতুন করে জল্পনা ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ধনকড়ের পদত্যাগের নেপথ্যে শুধুই কি শারীরিক কারণ, নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনও রাজনৈতিক চাপ তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। সবথেকে বেশি মতান্তর ও সংঘাতের ইঙ্গিত মিলেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে।
সেখানে তিনি লিখেছেন, 'ধনকড়জি বহু সুযোগ পেয়েছেন।' এতেই বিশেষজ্ঞ মহলের মনে হয়েছে, ধনকড়ের সঙ্গে মোদী তথা সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় কোনও সংঘাত না হলে এ ধরনের কথা আসতে পারে না। এই পরিপ্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'গড়বড়' মন্তব্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থাকার সময়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ধনকড়ের সংঘাত নিয়ে আলাদা বই লেখা যায়। কিন্তু বহুবার তাঁদের মধ্যে সৌজন্যের চিত্রও দেখা গেছে। যদিও ধনকড়ের ইস্তফা প্রসঙ্গে মমতা সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও পোস্ট করেননি। কিন্তু নবান্ন থেকে যে মন্তব্য করলেন তাতে আর কিছু না হোক, বিতর্ক যে আরও উস্কে গেল তা বলাই বাহুল্য।