শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ মেনে ৩০ মে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 27 May 2025 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনের ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ঢালাও দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ (SSC SCAM)তুলে গোটা প্যানেলটাই বাতিল করে নতুন করে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশ মেনে ৩০ মে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে চলেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার (Mamata Banerjee)।
মঙ্গলবার নবান্নে এই মর্মে সাংবাদিক বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল ৩১ মে-র মধ্যে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে হলফনামা পেশ করতে হবে। সর্বোচ্চ আদালতের সেই নির্দেশ মেনে ৩০ মে নতুন নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে (SSC New Recruitment)।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক ২৪২০৩ শূন্য পদ তৈরি হয়েছে। ওই ২৪২০৩টি পদে নতুন করে শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। এ ছাড়া সরকার আরও কিছু নতুন পদ তৈরি করেছে। নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ১১৫১৭টি শিক্ষক পদ তৈরি হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য নতুন শিক্ষক পদ তৈরি হয়েছে আরও ৬৯১২টি। এ ছাড়া গ্রুপ সি পদে নতুন ৫৭১ এবং গ্রুপ সি পদে নতুন ১০০০টি পদ তৈরি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৪৪২০৩টি শূন্য পদে নিয়োগ করা হবে।
এর মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির জন্য ২৩,২১০ শিক্ষক নিয়োগ করা হবে (SSC - Vacancy for class nine and twelve)। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ১২,৫১৪ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে (SSC - Vacancy for class eleven and twelve)। গ্রুপ সি পদে নিয়োগ করা হবে ২৯৮৯ জনকে এবং ৫৪৮৮ জনকে গ্রুপ ডি পদে নিয়োগ করা হবে ।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ৩০ মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৬ জুন থেকে অনলাইনে আবেদন জমা নেওয়া হবে। ১৪ জুলাই পর্যন্ত আবেদন জমা নেওয়া হবে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শেষ হবে। এবং ২০ নভেম্বর থেকে কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে (SSC Teacher's Recruitment)।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে মুখ্যমন্ত্রী কেন নিজে সাংবাদিক বৈঠক করে এ কথা ঘোষণা করলেন? পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, সরকারের এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অর্থই হল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক ২৪২০৩ জনের চাকরি সরকারি ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়া। কারণ শীর্ষ আদালত সেই নির্দেশই দিয়েছিল। কিন্তু সরকার এই ঘোষণা করার ফলে চাকরিহারা শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীরা আরও হতাশ হয়ে পড়তে পারেন। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে বোঝাতে চেয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা ছাড়া সরকারের কাছে উপায় ছিল না। তবে ভুলে গেলে চলবে না, সরকার সর্বোচ্চ আদালতে (SSC Supreme Court) রিভিউ পিটিশন দাখিল করে রেখেছে। সেই রিভিউ পিটিশনে যদি সদর্থক ফল পাওয়া যায়, তাহলে নতুন করে নিয়োগের বিষয়টিই আর থাকবে না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “আমরা যাঁরা সরকার চালাই বা যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের সংবিধান বা আইন মেনে চলতে হয়। আমরা যদি আইনের পরিধির বাইরে গিয়ে অন্য পদক্ষেপ করি, তাহলে আদালত বিষয়টাকে অন্যভাবে নিতে পারে। আমরা রিভিউ পিটিশন দাখিল করেছি। আমরা রিভিউ পিটিশনে বলেছি, যাঁরা চাকরি করছেন, তাঁদের চাকরি করতে দেওয়া হোক। কারও যেন চাকরি বাতিল না হয়। তবে এখন সুপ্রিম কোর্টে গ্রীষ্ণকালীন অবসর চলছে”।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আপনাদের বুঝতে হবে, সুপ্রিম কোর্ট যে অর্ডার দিয়ে গেছে সেটা যদি পালন না করি, তাহলে ওরা বলে দিতে পারে, তোমাদের তো অর্ডার দিয়েছিলাম। তোমরা শোনোনি। তাই সবটাই বাতিল। তাই এটা করতে হচ্ছে। যদি রিভিউ পিটিশনে বলে, কারও চাকরি বাতিল করা হবে না। তাহলে তো কোনও অসুবিধা নেই”।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমাদের টাইম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, ৩১ মে-র মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যেহেতু প্যানেল বাতিল করা হয়েছে, তাই ৩১ মে-র মধ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে। সেই কারণে ৩০ মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে”।