নেত্রীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে এখন ভোটারদের অধিকার পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ধর্না তোলার আগে বিজেপি ও কমিশনকে জানিয়ে গেলেন, খেলা হবে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 10 March 2026 20:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় বঞ্চনার প্রতিবাদে গত ৬ মার্চ থেকে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee Dharna)। মঙ্গলবার সেই কর্মসূচির ইতি টানার আগে তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, “যে দরজাটা একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেই দরজাটা অনেকটাই খোলা হয়েছে। সেটির সদ্ব্যবহার করুন।” নেত্রীর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে এখন ভোটারদের অধিকার পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়, ধর্না তোলার আগে বিজেপি ও কমিশনকে জানিয়ে গেলেন, খেলা হবে।
আগামী ১৫-১৬ তারিখ নাগাদ লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে। সেই প্রসঙ্গে মমতা জানান, “নির্বাচন ঘোষণা হয়ে গেলেও ভাববেন না সুযোগ নেই। খেলাটা সুপ্রিম কোর্টের হাতে রয়ে গেল।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ২৫ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি। আদালতের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভোটের আগের দিন পর্যন্ত যদি কারও নাম বাদ যায়, তবে সেটিকে ‘স্পেশাল কেস’ হিসেবে দেখা হবে।
গ্যাসের দাম ও ‘তেলকড়ি’ কটাক্ষ
জ্বালানির দাম বাড়া নিয়ে মোদী সরকারকে বিঁধতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। আরব দুনিয়ার যুদ্ধের দোহাই দেওয়াকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে তাঁর প্রশ্ন, “মনমোহন সিং-এর সময় গ্যাসের দাম ছিল ৪০০ টাকা। আজ ছোট গ্যাস ১১০০, বড় গ্যাস ২১০০। এখন বলছে রাশিয়া থেকে তেল আনবে। তেলের ওপর তেলকড়ি মাখাতে হবে না? তেলকড়ি মাখবে জনগণ, আর উনি কোটি কোটি টাকা খরচা করে মিথ্যে বিজ্ঞাপণ করবেন।” প্রচারের টাকা থেকে কেন সরকার গ্যাসের ভর্তুকি দিচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
‘গদ্দার’ ও ‘টাকায় কেনা’ নিয়ে হুঁশিয়ারি
ভোটের মুখে দলবদলুদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তাঁর কথায়, “কাউকে কাউকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু লোকে যখন জেনে যায় কেউ টাকা নিয়েছে, সে চিরকালের মতো গদ্দার হয়ে যায়। এই বদনাম কেন নেবেন? সম্মানের সঙ্গে বাঁচুন।” দলীয় কর্মীদেরও সতর্ক করে তিনি জানান, কেউ টাকা নিয়ে বিক্রি হচ্ছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
চাষিদের পাশে সরকার
রাজ্যে আলুর দাম ও বিক্রি নিয়ে সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকার সরাসরি ন্যায্যমূল্যে আলু কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তিনি মঞ্চ থেকেই কৃষি সচিবের সঙ্গে কথা বলে চাষিদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করার নির্দেশ দেন। মমতা মনে করিয়ে দেন, বিনাপয়সায় চাল থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা— মানুষের সব প্রয়োজনে তাঁর সরকার পাশে আছে।
ধর্মতলার এই পাঁচ দিনের অবস্থান শেষ হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন, এবারের লড়াই তিনি শুধু রাজপথে নয়, আইনি পথেও শেষ পর্যন্ত লড়বেন।