রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই যে তাঁর পরিবার এবং দলের নেতাদের বারবার নিশানা করা হচ্ছে, সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন মমতা। বিরোধীরা প্রায়ই মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আঁকা এবং তাঁর ছবির দাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 7 April 2026 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) এলেই তৃণমূলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধায়ায়ের (Abhishek Banerjee) 'পেশা' নিয়ে বিরোধীদের খোঁচা লেগেই থাকে। কখনও প্রশ্ন ওঠে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আঁকা নিয়ে, তো কখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যবসা নিয়ে। সোমবার সেই সমস্ত অভিযোগের পাহাড় কার্যত এক ধাক্কায় উড়িয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সাফ প্রশ্ন, "চুরি-ডাকাতি না করে কেউ যদি সৎ পথে ব্যবসা করে, তাতে আপনাদের আপত্তি কোথায়?"
এদিন নাম না করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং বিজেপিকে বিঁধে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "ওরা কাকে ফাঁসায়নি! যাকে পারছে তাকেই ধরছে।" রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই যে তাঁর পরিবার এবং দলের নেতাদের বারবার নিশানা করা হচ্ছে, সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন মমতা। বিরোধীরা প্রায়ই মুখ্যমন্ত্রীর ছবি আঁকা এবং তাঁর ছবির দাম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে, অভিষেকের আয়ের উৎস এবং ব্যবসা নিয়েও চলে নিরন্তর চর্চা। এদিন পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, "ওরা কাকে ফাঁসায়নি। আমি কেন ছবি আঁকি, অভিষেক কেন ব্যবসা করে?"
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, সৃজনশীল কাজ বা ছবি আঁকা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় এবং অধিকার। অভিষেকের পক্ষ নিয়ে মমতার যুক্তি, "অভিষেক কেন ব্যবসা করে? আরে খাবে কী? ওর পরিবার নেই? চুরি করবে না ডাকাতি করবে?"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের সভা থেকে প্রশ্ন তুলে দেন, অভিষেক যদি অবৈধ কোনও পথ বেছে না নিয়ে ব্যবসায়িক পথে নিজের সংস্থান করেন, তবে তাকে অপরাধ হিসেবে দেখা হচ্ছে কেন। তাঁর কথায়, "সৎ ভাবে ব্যবসা করলে আপনার আপত্তির কী আছে?" রাজনৈতিক মহলের মতে, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে কয়লা-গরু পাচার কাণ্ডে বারবার অভিষেকের নাম জড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সময় কারাবাস এবং মন্ত্রিত্ব খোয়ানোর পর, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) বালুকেই ফের বাজি ধরেছে শাসকদল। আর এ দিন সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা ‘আস্থা’র কথা জনসমক্ষে কবুল করলেন নেত্রী নিজেই। জ্যোতিপ্রিয়র প্রশাসনিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা এ দিন সাফ জানান, তাঁর সরকারের আমলে রেশন ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার কারিগর বালুই। তাঁর দাবি, এই সাফল্যকে ‘হিংসে’ করেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাঁকে গ্রেফতার করেছে, যার নেপথ্যে কোনও প্রমাণ নেই।
রেশন দুর্নীতির অভিযোগকে খণ্ডন করে মমতা সরাসরি আঙুল তুলেছেন বাম জমানার দিকে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম আমলের প্রায় দেড় লক্ষ ‘ফল্স’ রেশন কার্ডের কারচুপি ধরে ফেলেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। সেই আক্রোশ থেকেই তাঁকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন নেত্রী।