জ্যোতিপ্রিয়র প্রশাসনিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা এ দিন সাফ জানান, তাঁর সরকারের আমলে রেশন ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার কারিগর বালুই।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
শেষ আপডেট: 7 April 2026 14:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় দলীয় প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সমর্থনে ময়দানে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সময় কারাবাস এবং মন্ত্রিত্ব খোয়ানোর পর, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে (West Bengal Assembly Election 2026) বালুকেই ফের বাজি ধরেছে শাসকদল। আর এ দিন সেই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকা ‘আস্থা’র কথা জনসমক্ষে কবুল করলেন নেত্রী নিজেই।
জ্যোতিপ্রিয়র প্রশাসনিক দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করে মমতা এ দিন সাফ জানান, তাঁর সরকারের আমলে রেশন ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তার কারিগর বালুই। নেত্রীর কথায়, “জেনে রাখুন, আমার গভর্নমেন্টে বালু যত ভাল কাজ করেছে, তা আর কেউ করতে পারেনি।” ডিজিটাল রেশন কার্ড চালু থেকে শুরু করে পাচার রোখা— খাদ্য দফতরের ভোলবদল যে বালুর হাত ধরেই সম্ভব হয়েছে, তা বারবার মনে করিয়ে দেন তিনি। তাঁর দাবি, এই সাফল্যকে ‘হিংসে’ করেই কেন্দ্রীয় এজেন্সি তাঁকে গ্রেফতার করেছে, যার নেপথ্যে কোনও প্রমাণ নেই।
রেশন দুর্নীতির অভিযোগকে খণ্ডন করে মমতা সরাসরি আঙুল তুলেছেন বাম জমানার দিকে। তাঁর অভিযোগ, সিপিএম আমলের প্রায় দেড় লক্ষ ‘ফল্স’ রেশন কার্ডের কারচুপি ধরে ফেলেছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। সেই আক্রোশ থেকেই তাঁকে ভুয়ো মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন নেত্রী। এ দিন সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর প্রশ্ন ছিল, এই ‘অপমান’ ও ‘কুৎসার’ বদলা ইভিএম-এ নেওয়া হবে কি না।
বরাবরের মতো এ দিনও বাম-কংগ্রেস-বিজেপিকে একই লাইনে রেখে আক্রমণ শানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সংক্ষিপ্ত অথচ তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ হল, “কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম— তিনটেই সেম সেম।” অর্থাৎ, রাজ্যে বিরোধী পক্ষগুলি যে তলে তলে একজোট হয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে, সেই বার্তাই তিনি হাবড়া ও অশোকনগরের ভোটারদের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন।
বস্তুত, বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বারাসত সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটি গঠন করেছিল তৃণমূল। সেই কোর কমিটির আহ্বায়ক করা হয় রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষকে। যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে হাবড়ার বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে বেছে নেওয়া হয়। রাজ্য রাজনীতিতে যাঁর পরিচিতি বালু নামে।
রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর ইডির হাতে গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্রিয়। এক বছর দু’মাস জেলে থাকার পর গত বছর ১৫ জানুয়ারি জামিনে মুক্তি পান তিনি। জেলযাত্রার কারণে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র হাবড়ায় পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে নিয়মিত যোগদান করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে।