প্রার্থীচয়ন নিয়ে দলের একাংশের ক্ষোভ যখন উত্তর থেকে দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন সেই বিদ্রোহ দমনে দুই ভিন্ন রণকৌশল নিলেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ কাণ্ডারি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 30 March 2026 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আর এক মাসও বাকি নেই। এদিকে শাসকদলের অন্দরে ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের’ কাঁটা যে পুরোপুরি উপড়ে ফেলা যায়নি, গত দু’দিনের ঘটনাক্রম তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিল। প্রার্থীচয়ন নিয়ে দলের একাংশের ক্ষোভ যখন উত্তর থেকে দক্ষিণে ছড়িয়ে পড়ছে, তখন সেই বিদ্রোহ দমনে দুই ভিন্ন রণকৌশল নিলেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ কাণ্ডারি। রবিবার নওদার মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) যখন অবাধ্য কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘শাস্তিমূলক’ ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিলেন, সোমবার বেলদার জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তখন অনেক বেশি ‘মানবিক’ ও ‘অভিভাবক সুলভ’ ভঙ্গিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেন।
পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে এবার প্রার্থী পরিবর্তন করেছে তৃণমূল। আর তা নিয়েই স্থানীয় স্তরে অসন্তোষ দানা বেঁধেছিল। সোমবার বেলদার ভরা জনসভা থেকে সেই ক্ষোভ প্রশমন করতে মমতা বলেন, “এখানে আগের প্রার্থীকে টিকিট দিতে পারিনি। অন্যদেরও তো সুযোগ দিতে হয়। কখনও কখনও সংখ্যালঘু বা মেয়েদেরও জায়গা ছাড়তে হয়।” টিকিট না পাওয়া ক্ষুব্ধ নেতাদের উদ্দেশে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “কেউ যদি মনে করেন আজীবন আমি একাই থাকব, তবে সেটা ভুল। দল সকলের জন্য। টিকিট পাননি বলে দলের বিরোধিতা করবেন, তা ঠিক নয়। একটা আসন তো একজনকে ছাড়া দেওয়া যায় না।” মমতার এই ‘সবাইকে নিয়ে চলা’র বার্তা অসন্তুষ্টদের মান ভাঙানোরই চেষ্টা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মমতা যখন বেলদায় নরম সুরে বোঝাচ্ছেন, ঠিক তার ২৪ ঘণ্টা আগে মুর্শিদাবাদের নওদায় ছবিটা ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। সেখানে প্রার্থী শাহিনা মমতাজ বেগমের সমর্থনে অভিষেকের সভার আগেই চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিল দলের দুই গোষ্ঠী। সেই বিশৃঙ্খলা দেখে চুপ করে থাকেননি তৃণমূলের ‘সেকেন্ড ইন কম্যান্ড’। কড়া বার্তা দিয়ে অভিষেক সাফ জানান, “দলকে চাপে রাখতে কেউ বিশৃঙ্খলা করলে তাঁকে ক্ষমা করা হবে না। মনে রাখবেন, নওদা আসনে প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাকে দেখেই ভোট দেবেন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা-অভিষেক— দু’জনেরই লক্ষ্য এক, কিন্তু শৈলী আলাদা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বলে থাকেন, “২৯৪টি কেন্দ্রে আমিই প্রার্থী, আমার ওপর ভরসা রাখুন।” অন্যদিকে অভিষেকও নওদার অসন্তোষের মাঝে নিজেকেই ‘প্রার্থী’ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।