শাসকদলের বক্তব্য, সংবিধান ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক অম্বেদকর এবং বাঙালিয়ানার প্রতীক রবীন্দ্রনাথের নামের সঙ্গে এই মিছিলের শুরু ও শেষ যুক্ত করে তারা বার্তা দিতে চায়— ‘সংবিধান বাঁচাও, গণতন্ত্র রক্ষা করো’।
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 4 November 2025 19:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার একজনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। এদিন এসআইআরের (SIR) প্রতিবাদে জোড়াসাঁকোর সভা থেকে আরও একধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হুঁশিয়ারি, "বাংলার একজনও যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলে কেন্দ্রে বিজেপির সরকার ভেঙে দেব।"
একই সঙ্গে কমিশনকে নিশানা করে মমতা বলেন, "মোদীবাবু, শাহবাবুকে খুশি করতে গিয়ে কুর্সিবাবু (Election Commission) ইতিহাস তৈরি করতে চাইছেন! ফেব্রুয়ারিতে নাকি ভোট ঘোষণা করবেন! আপনার ইতিহাস পাতিহাস হবে।" বিজেপিকে ফেকুবাবু বলে কটাক্ষ করে মমতা এও বলেন, "এতদিন পর প্রমাণ দিতে হবে আমরা ভারতের নাগরিক কিনা?"
মমতার অভিযোগ, "বাংলার দু'কোটি মানুষের নাম কেটে বিজেপি বাংলা দখলের ছক কষছে। ওরা হিসেব কষে নাকি দেখেছে ওদের ভোট ৩৯ শতাংশ আর আমাদের নাকি ৪0 শতাংশ। ২কোটি নাম বাদ দিলে নাকি ক্ষমতা দখল করতে পারবে। আমি বলে যাচ্ছি, ওরা যেভাবে এসআইআরের নাম করে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে তাতে আমাদের হারানো তো দূরে থাক, ওদের নিজেদের ভোটও এবার আমাদের দিকে আসবে। কারণ, যেভাবে মানুষকে ওরা ভিটে মাটি উচ্ছেদ করতে চাইছে, তাতে ওদের ঘরেও বিদ্রোহ শুরু হয়ে গেছে।"
এসআইআরের নামে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগে এদিন কলকাতায় মহা মিছিলের ডাক দিয়েছিল তৃণমূল। রেডরোড থেকে জোড়াসাঁকো মিছিল শেষে বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "স্বাধীনতার আন্দোলনের সময় বিজেপি কোথায় ছিল? ওদের তো তখনও জন্মই হয়নি! ওরা কি করে জানবে দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস! ওরা সবচেয়ে বড় জনগণের টাকা লুঠেরা জোতদার!"
প্রশ্ন তুলেছেন, "বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয় না, যেমন হিন্দি বা উর্দু ভাষায় কথা বললে পাকিস্তানি হয়ে যায় না। তাই বলে আপনি তাঁদের পাকিস্তানি বলে তাড়িয়ে দেবেন।"
এরপরই বিজেপি নেতাদের মুর্খ, ''অর্ধ শিক্ষিত, ''গন্ডমুর্খর সঙ্গে তুলনা করে কমিশন-বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ এনে মমতা বলেন, "এবারেই (গত লোকসভা) তো জিততো না। হঠাৎ করে ইলেকশন কমিশন ওদের ভোটের পার্সেন্টেজ বাড়িয়ে দিল, তাতেও কটা বেশি আসনে জিতেছে? আসলে ওরা জানে মানুষের ভোটে জিততে পারবে না, নোটে জিতবে। তাই এসব করছে।"
মমতা প্রশ্ন তুলেছেন, এই ভোটার তালিকা যদি ত্রুটিযুক্ত হয়, তাহলে এই ভোটার লিস্টেই তো তোমরা সরকার গড়েছো। আগে নিজেরা ইস্তফা দাও, তারপরে এসআইআর করবে।
নাম না করে শাহকে ফের মীরজাফর বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, "আমি ইতিহাসের মীরজাফরের কথা বলছি না, আমি এখনকার মীরজাফরের কথা বলছি, যে সারা দেশে দাঙ্গা বাঁধাচ্ছে। মীরজাফরবাবু, আপনি অসমে কেন এসআইআর করলেন না?"
কমিশনের আধিকারিককে কুর্সিবাবু বলে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, "আপনি ওদের হয়ে যা কাজ করছেন, কোনও বিএলও-ও করবে না! রোহিঙ্গারা এলে কোনটা দিয়ে আসবে। আসলে তো নাগালান্ড, মিজোরাম দিয়ে আসবে, তাহলে নর্থ ইস্টে কি এসআইআর করেছো? বাংলাদেশিরা তো এলে ত্রিপুরা, অসম হয়ে আসবে। সেখানে এসআইআর হল না কেন? ক্ষমতায় থেকে নিজেদের গোখরো ভাবছো! অপেক্ষা করো, মানুষের ছোবল খাওয়ার জন্য।"
নোটবন্দির প্রসঙ্গ টেনে মমতা এও বলেন, বিদেশ থেকে নাকি কালো টাকা উদ্ধার করে আনবে? উল্টে নিজেদের কালো টাকা সাদা করল, মধ্যিখান থেকে নোটবন্দির জাঁতাকলে পড়ে নিরীহ মানুষ মারা গেল। এদের রাজত্বে এমন অবস্থা যে এলআইসিকেও বেসরকারিকরণ করে দিচ্ছে।
তিনিই প্রথম সচিত্র ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন মনে করিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা মারা গিয়েছে তাঁদের নাম বাদ যাক, কিন্তু তা বলে যোগ্যদের নাম বাদ দিয়ে দেবে! এত বড় স্পর্ধা। এসআইআর হোক, কিন্তু বেছে বেছে বিরোধী রাজ্যে এসআইআর করার জন্য কেন এত তাড়াহুড়ো?"
খানিক থেমে জবাবও দিয়েছেন নিজেই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "আসলে বাংলায় বারবার হার, এটাই ওদের রাগ। তাই পিছনের দরজা দিয়ে বাংলা দখলের চেষ্টা করছে।"