‘যুবসাথী’ (Yuva Saathi) প্রকল্পের টাকা ঢোকার আশায় এখনও রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— হন্যে হয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স পরীক্ষা করছেন লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 29 March 2026 13:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোবাইলে বেজে উঠছে নোটিফিকেশন। স্ক্রিনে ভেসে উঠছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ভিডিও শুভেচ্ছা-বার্তা। কিন্তু ব্যাঙ্কের দোরগোড়ায় গিয়ে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ‘যুবসাথী’ (Yuva Saathi) প্রকল্পের টাকা ঢোকার আশায় এখনও রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ— হন্যে হয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স পরীক্ষা করছেন লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী। প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তুলনায় টাকা প্রাপকের সংখ্যা এখনও নগণ্য হওয়ায় ভোটমুখী বাংলায় রীতিমতো অস্বস্তিতে শাসকদল (West Bengal Assembly Election 2026)।
নবান্ন সূত্রে খবর, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের জন্য অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে মোট ৭৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক লক্ষ আবেদনকারী ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর সুবিধা পাচ্ছেন। নিয়মানুযায়ী জোড়া প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে স্ক্রুটিনির পর প্রায় ২০ লক্ষ আবেদন বাতিল করে আপাতত ৫৪ লক্ষ উপভোক্তাকে এই ভাতার জন্য যোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
টাকা না পাওয়া নিয়ে যখন নিচুতলায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তখন রবিবার পুরুলিয়ার মানবাজারের (Purulia Manbazar) সভা থেকে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, “যাঁরা যুবসাথী পাননি, তাঁদের আবেদনে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি বা ‘ডুপ্লিকেট’ সমস্যা হয়েছে। ওটা ডেকে ডেকে আবার ঠিক করিয়ে দেওয়া হবে। এটা কোনও ভিক্ষা নয়, যুবকদের হাতখরচ লাগে। তাঁরাও ভবিষ্যতে চাকরি পাবেন।” জেলা প্রশাসনগুলিকেও দ্রুত নথি পরীক্ষা করে রাজ্যকে রিপোর্ট পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একুশের বিধানসভা ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু এবার তাঁর কৌশল আলাদা। প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটের জন্য অপেক্ষা না করে, নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক আগেই উপভোক্তাদের পকেটে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় তাল কাটছে ‘টেকনিক্যাল’ জট। শুধু যুবসাথী নয়, একাধিক জেলায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের চলতি মাসের টাকাও এখনও মেলেনি বলে অভিযোগ।
এবারও বাংলার ভোটে তৃণমূল বিরোধিতায় দৃশ্যত বিজেপির অংশীদারিত্ব বেশি। তাদের বেশি করে মাঠে ময়দানে দেখা যাচ্ছে। তা ছাড়া মোদী-অমিত শাহরাও প্রচারে নেমে পড়েছেন। সন্দেহ নেই, বেকার ভাতার গুঁতোয় অঙ্ক ঘাঁটা শুরু করতে দিতে চান না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যে কারণে এদিনের নির্বাচনী জনসভা থেকে যুবদের আশ্বস্ত করে রাখলেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী।