তৃণমূল নেতার বাবার দাবি, তাঁর ছেলে যোগ্য পরীক্ষার্থী হিসেবেই শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছেন, কোনও অন্যায় করেননি। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, সামসুদ্দিন শুধু নিজের চাকরি নয়, এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন।
.jpg.webp)
'দাগি' তালিকায় মালদহের তৃণমূলের নেতা
শেষ আপডেট: 1 September 2025 08:54
দ্য় ওয়াল ব্যুরো: এসএসসির ৩৩ পাতার 'দাগি' তালিকায় (SSC Tainted List) একাধিক তৃণমূল নেতা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠর নাম দেখা গেছে। সেই তালিকায় নাম রয়েছে মালদহের মোথাবাড়ির তৃণমূল নেতা (TMC Leader) ও স্থানীয় শিক্ষক সামসুদ্দিন আহমেদের। তবে তাঁর নাম যে কেবল 'দাগি'দের মধ্যে রয়েছে তাই নয়, এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বহুজনের কাছ থেকে মোটা টাকা তুলেছেন বলেই জানা যাচ্ছে।
সামসুদ্দিনের স্ত্রী সারিকা খাতুন বর্তমানে মালদহ জেলা পরিষদের সদস্য। রাজনৈতিকভাবে তাঁদের অবস্থানও বেশ প্রভাবশালী বলে জানা গেছে। তৃণমূল নেতার বাবার দাবি, তাঁর ছেলে যোগ্য পরীক্ষার্থী হিসেবেই শিক্ষক পদে যোগ দিয়েছেন, কোনও অন্যায় করেননি। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, সামসুদ্দিন শুধু নিজের চাকরি নয়, এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকেও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এই অভিযোগ সামনে আসতেই স্থানীয়দের ক্ষোভ বেড়েছে।
তালিকা বেরনোর পর থেকেই সামসুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী প্রকাশ্যে আর দেখা দিচ্ছেন না। প্রতিবেশীরা বলছেন, এবার টাকা ফেরতের দাবি নিয়ে লোকজন তাঁদের বাড়িতে আসতে পারে, এই আশঙ্কায় তাঁরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, শ্বশুরবাড়ির কোনও সদস্যের মৃত্যু খবর পেয়ে তাঁরা বাইরে গিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। মোথাবাড়িতে এখন মূল প্রশ্ন, সত্যিই কি সামসুদ্দিন যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন, নাকি টাকার বিনিময়ে পদ দখল করেছেন? উত্তর মেলেনি, তবে জল্পনা-সমালোচনা আরও বাড়ছে।
শনিবার রাত ৮টা নাগাদ এসএসসি-র (SSC) ওয়েবসাইটে রোল নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর দিয়ে 'দাগি' শিক্ষকদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ১ হাজার ৮০৪ জনের নাম ছিল সেই তালিকায়। পরে মধ্যরাতে আরও দু'জনের নাম যোগ করা হয়। অর্থাৎ মোট 'দাগি'দের সংখ্যা ১ হাজার ৮০৬।
যেখানে শাসকঘনিষ্ঠ (Close To TMC) বেশ কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councilor) কুহেলি ঘোষ, প্রিয়াঙ্কা মণ্ডলের নাম উঠে এসেছে। মোট কথা তাঁরা 'দাগি অযোগ্য' চাকরিপ্রাপক বলে চিহ্নিত। তাছাড়া পিংলার জলচক পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি অজয় মাঝির নামও রয়েছে এই তালিকায়। নাম রয়েছে বিধায়কের আত্মীয়েরও।
কমিশন সূত্রে খবর, শনিবার প্রকাশিত হওয়া 'দাগি'দের তালিকায় থাকা ১ হাজার ৮০৪ জনের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনই আবেদন করেছিলেন। সেই তালিকা মিলিয়েই মোট ২ হাজার ১৬০টি অ্যাডমিট বাতিল করল এসএসসি। এসএসসি সূত্রে খবর, অনেক 'দাগি' শিক্ষক নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ উভয়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্যই আবেদন করেছিলেন। তাই 'দাগি'দের সংখ্যার তুলনায় অ্যাডমিট কার্ডের সংখ্যা বেশি।