নাম প্রকাশের পর এসএসসির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন দাগি অযোগ্যদের তালিকায় থাকা শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, এসএসসি পিঠ বাঁচাতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 31 August 2025 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি-র প্রকাশিত অযোগ্য প্রার্থীদের তালিকায় (SSC Tainted List) নাম উঠেছে পানিহাটির (Panihati) তৃণমূল বিধায়ক (TMC MLA) নির্মল ঘোষের (Nirmal Ghosh) পুত্রবধূ শম্পা ঘোষের (Shampa Ghosh)। ১৮০৬ জন অযোগ্য প্রার্থীর মধ্যে তালিকার ১২৬৯ নম্বরে রয়েছেন তিনি। দাপুটে বিধায়ককে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তাঁর উত্তর, "তাতে কী হয়েছে? কে দাগি কে নয় সেটার বিচার চলছে। আইনই যা বলার বলবে। আমার কাছে কোনও কাগজ নেই। থাকলে দেখে যাচাই করে যা বলার বলব।"
নির্মল ঘোষ বর্তমানে বিধানসভার মুখ্য সচেতক। তাঁর বৌমা শম্পা ঘোষ উত্তর চব্বিশ পরগণার নৈহাটির একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তিনি নিজে অবশ্য জানিয়েছেন, "এ বিষয়ে আমি এখন কোনও কথাই বলব না।"
এসএসসি-র (SSC) ২৬ হাজার (26000 Job Cancel) চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্দেশ দিয়েছিল ৭ দিনের মধ্যে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ (SSC Tainted List) করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই শনিবার সেই তালিকা প্রকাশ করে এসএসসি। আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ১ হাজার ৮০৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে রাতের দিকে আরও একটি তালিকা দিয়ে দু'জনের নাম প্রকাশ করে কমিশন। অর্থাৎ এখন দাগিদের সংখ্যা ১৮০৬। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের কাউন্সিলর, অঞ্চল সভাপতি-সহ বিধায়ক ঘনিষ্ঠদের নাম।
নাম প্রকাশের পর এসএসসির বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছেন দাগি অযোগ্যদের তালিকায় থাকা শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, এসএসসি পিঠ বাঁচাতে এই তালিকা প্রকাশ করেছে।
বস্তুত, প্রথমে ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যেই সেই তালিকা হঠাৎ প্রত্যাহার করা হয়। এই অঘটন ঘিরেই কমিশনের দফতরে তৈরি হয় নাটকীয় পরিবেশ।
ঠিক সেই সময়েই কমিশনে হাজির হন এসএসসি চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার (SSC Chairman Siddhartha Majumder)। তিনি দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকের পরেই ফের নতুন করে প্রকাশ করা হয় সংশ্লিষ্ট ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীদের তালিকা।
আগামী ৭ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর এসএসসির নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চের নির্দেশ রয়েছে, ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের নামের তালিকা সাত দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে কমিশনকে। শীর্ষ আদালতের ওই নির্দেশ মতো ‘দাগি অযোগ্য’দের নামের তালিকা প্রকাশ্যে আনা হয়েছে।