শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা থিতু হল।

তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 13 March 2026 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন' (Cash for Query) মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই-এর চার্জশিট পেশের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত মহুয়ার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ার গতি কিছুটা থিতু হল।
এ দিন শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় মূল অভিযোগকারী বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবের (Nishikant Dubey) জবাবদিহি চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে। পাশাপাশি মহুয়া মৈত্র এবং তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-কেও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে।
দীর্ঘ আইনি টানাপড়েন
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ নভেম্বর, যখন লোকপাল মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই-কে চার্জশিট জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) যান কৃষ্ণনগরের সাংসদ। হাইকোর্ট প্রথমে স্থগিতাদেশ না দিলেও গত ১৯ ডিসেম্বর লোকপালের পুরনো নির্দেশটি খারিজ করে দেয় এবং 'আইনগত ত্রুটি' সংশোধন করে চার সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে সময়সীমা নিয়ে জট তৈরি হওয়ায় মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের দরজায় পৌঁছায়। এ দিন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের একটি নির্দিষ্ট অংশে স্থগিতাদেশ দিয়ে চার্জশিট পেশের পথ আপাতত বন্ধ করে দিল।
কী ছিল অভিযোগ?
তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, গত লোকসভার সদস্য থাকাকালীন তিনি দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সংসদে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন করেছিলেন। নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও শিল্পপতি গৌতম আদানিকে অস্বস্তিতে ফেলতেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সিবিআই-এর দাবি, মহুয়া তাঁর সংসদের 'লগ ইন আইডি' হীরানন্দানিকে দিয়েছিলেন, যা ব্যবহার করে মোট ৬১টি প্রশ্ন পোস্ট করা হয়েছিল।
বহিষ্কার থেকে ফের জয়
এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর এথিক্স কমিটির সুপারিশ মেনে মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই জারি রেখে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জিতে ফের সংসদে ফেরেন তিনি।