সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ৬১টি সংসদীয় প্রশ্ন করেছিলেন মহুয়া। তার মধ্যে তিনটি প্রশ্ন করা হয়েছিল সরাসরি সংসদে, অফলাইন মাধ্যমে।
.jpeg.webp)
মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 19 December 2025 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আপাতত স্বস্তি পেলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সংসদে ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ মামলায় (Cash for query) তাঁর বিরুদ্ধে চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট জমা দিতে সিবিআইকে (CBI) নির্দেশ দিয়েছিল লোকপাল (Lokpal)। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) আবেদন জানিয়েছিলেন মহুয়া। শুক্রবার লোকপালের ওই নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে বিষয়টি নতুন করে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট।
বিচারপতি অনিল ক্ষেত্রপাল এবং বিচারপতি হরিশ বৈদ্যনাথন শঙ্করের ডিভিশন বেঞ্চ (High Court Division Bench) জানিয়েছে, নির্দেশ জারির ক্ষেত্রে লোকপালের কিছু ত্রুটি ছিল। সেই কারণেই গোটা বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। আদালত এক সপ্তাহের মধ্যে লোকপালকে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে (Mahua Moitra News)।
উল্লেখ্য, এর আগেই ‘ঘুষের বিনিময়ে প্রশ্ন’ মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল লোকপাল। সেই তদন্ত শেষ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা একটি বিস্তারিত রিপোর্ট লোকপালের কাছে জমা দেয়। রিপোর্টে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সিবিআই আদালতে চার্জশিট দাখিল করে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি চায়। গত ১২ নভেম্বর লোকপালের ফুল বেঞ্চ সেই আবেদন মঞ্জুর করে সিবিআইকে চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এই নির্দেশের বিরুদ্ধেই দিল্লি হাইকোর্টের (Delhi High Court) দ্বারস্থ হন মহুয়া। লোকপালের নির্দেশ বাতিলের পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশও চেয়েছিলেন, যাতে আদালতে মামলা চলাকালীন সিবিআই (CBI Mahua Moitra) তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করে। তবে গত ২১ নভেম্বর আদালত অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে এবং রায়দান স্থগিত রাখে। শুক্রবার সেই নির্দেশেরই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে লোকপালের চার্জশিট সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট।
মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুবাইয়ের শিল্পপতি দর্শন হীরানন্দানির কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি সংসদে প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই প্রশ্নগুলির নিশানায় ছিলেন শিল্পপতি গৌতম আদানি। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অস্বস্তিতে ফেলতেই এই প্রশ্নগুলি তোলা হয়েছিল। এই অভিযোগ তুলে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে মহুয়ার সাংসদপদ খারিজের দাবি জানান। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন মহুয়ার প্রাক্তন বান্ধব জয় অনন্ত দেহাদ্রাইও।
সিবিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ৬১টি সংসদীয় প্রশ্ন করেছিলেন মহুয়া। তার মধ্যে তিনটি প্রশ্ন করা হয়েছিল সরাসরি সংসদে, অফলাইন মাধ্যমে। বাকি প্রশ্নগুলি অনলাইনে জমা দেওয়া হয়। তদন্তে হীরানন্দানি হলফনামা দিয়ে দাবি করেছিলেন, মহুয়ার সংসদীয় লগইন আইডি ব্যবহার করেই তিনি প্রশ্ন পোস্ট করতেন।