প্রশ্ন ঘুষ মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করল লোকপাল (Lokpal)। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে (CBI) চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দিল দেশের অ্যান্টি-কোরাপশন ওয়াচডগ।

মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 15 November 2025 17:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগেই নদিয়ার করিমপুরের মাঠে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra) ও প্রাক্তন সাংসদ পিনাকি মিশ্রর বিয়ের রিসেপশন ছিল। খোলা মাঠে সুন্দর করে সাজিয়ে সেই রিসেপশনের ছবি সমাজ মাধ্যমে সেনসেশনও তৈরি করেছিল। এরই মধ্যে অন্য খবর এল মহুয়াকে নিয়ে। প্রশ্ন ঘুষ মামলায় মহুয়ার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করল লোকপাল (Lokpal)। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইকে (CBI) চার্জশিট দাখিলের অনুমতি দিল দেশের অ্যান্টি-কোরাপশন ওয়াচডগ।
কী বলল লোকপাল? (Lokpal on Mahua Moitra)
লোকপালের নির্দেশে বলা হয়েছে— সিবিআই আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মহুয়া মৈত্র-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করবে, এবং সেই নথির একটি কপি লোকপালের রেজিস্ট্রিতে জমা দিতে হবে। তবে এখনও লোকপাল প্রসিকিউশন শুরু করার অনুমতি দেয়নি। তারা জানিয়েছে—চার্জশিট আদালতে দাখিল হওয়ার পর আদালত যখন অভিযোগ গ্রহণ করবে, তারপরই প্রসিকিউশন সংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
লোকপালের আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, “অভিযুক্ত রেপুটেড পাবলিক সার্ভেন্ট (RPS)-এর বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমতি চেয়ে সিবিআই যে আবেদন করেছে— সেটিই এই মুহূর্তে বিবেচনার বিষয়। প্রসিকিউশন বা মামলার পরবর্তী ধাপ অনুমোদনের দাবি করা এখনই উপযুক্ত নয় বলেই বেঞ্চ মনে করেছে। লোকপাল জানিয়েছে, ২০১৩ সালের লোকপাল ও লোকায়ুক্ত আইনের ধারা ২০(৭)(এ) ও ধারা ২৩(১)-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করে সিবিআইকে অনুমতি দেওয়া হচ্ছে যে তারা আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে উপযুক্ত আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে”।
মহুয়ার অভিযোগ— ‘সিবিআই রিপোর্ট ফাঁস হয়েছে মিডিয়ায়’
গত অগাস্ট মাসে মহুয়া মৈত্র দিল্লি হাইকোর্টে অভিযোগ করেন যে সিবিআই যে রিপোর্ট লোকপালের কাছে জমা দিয়েছে, সেটি নাকি সঙ্গে সঙ্গেই মিডিয়ায় ফাঁস হয়েছে।
জানিয়ে রাখা ভাল, মহুয়ার বর্তমান স্বামী পিনাকি মিশ্র হলেন বিজু জনতা দলের প্রাক্তন সাংসদ তথা সুপ্রিম কোর্টের দুঁদে আইনজীবী। মহুয়ার দায়ের করার মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট নির্দেশে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সবাইকে ‘কঠোর গোপনীয়তা’ রাখতে হবে। আদালত আরও জানায়, লোকপাল ও লোকায়ুক্ত আইন এবং সংশ্লিষ্ট সার্কুলার কঠোরভাবে মানা উচিত।
মহুয়ার আইনজীবীর দাবি ছিল— রিপোর্ট জমা পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। তাই আইন অনুযায়ী গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয়েছে। আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি করে জানায়— “সুস্পষ্টভাবে বলছি, কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।”
মহুয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা, উপহার ও সুবিধা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন। এবং লোকসভার সাংসদদের জন্য ইমেল আইডি তৈরি করে দেওয়া হয়, তার পাসওয়ার্ড সেই ব্যবসায়ীর সঙ্গে শেয়ার করেছেন তিনি।
এরপর কী?
সিবিআইকে চার সপ্তাহের মধ্যে চার্জশিট দিতে হবে। ওই চার্জশিট দাখিলের পর আদালত সিদ্ধান্ত নেবে অভিযোগ গ্রহণ করবে কি না। তারপরই লোকপাল পরবর্তী পদক্ষেপ করবে, অর্থাৎ প্রসিকিউশনের অনুমোদন দেওয়া হবে কিনা।