দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস।

মহুয়া মৈত্র এক্সবার্তায় লিখেছেন, দেশের প্রয়োজন একজন যোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শেষ আপডেট: 11 November 2025 12:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের পরদিন সকালেই ভুটান সফরে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে ভারতের সহযোগিতায় বিশাল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সূচনা করবেন মোদী। যাওয়ার আগে বিহারের ভোটে বিজেপিকে সমর্থনের ডাক দিয়ে গিয়েছেন। এবং ভারত-ভুটান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত হওয়ার ব্যাপারে আশার আলো দেখিয়েছেন। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে মোদীর এভাবে দেশত্যাগের বিষয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই ২৬/১১-য় মুম্বইয়ে জঙ্গি হামলার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সাংবাদিক সম্মেলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু, দিল্লির মতো রাজধানীর বুকে এত বড় কাণ্ড ঘটে গেলেও প্রধানমন্ত্রী বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সাংবাদিক সম্মেলন করার প্রয়োজন বোধই করেননি।
দিল্লির লালকেল্লার সামনে বিস্ফোরণের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার লোকসভা সদস্য মহুয়া মৈত্র এক্সবার্তায় লিখেছেন, দেশের প্রয়োজন একজন যোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সর্বক্ষণের ঘৃণা প্রচারের মন্ত্রী নয়। অমিত শাহের কর্তব্য নয় কি আমাদের দেশের সীমান্ত এবং শহরগুলিকে নিরাপত্তা দেওয়া? কেন তিনি বারবার এটাই করতে ব্যর্থ হচ্ছেন, কেন সব দিক থেকে তিনি ব্যর্থ, প্রশ্ন তুলেছেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।
প্রায় একইভাবে আক্রমণ শানিয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল লোকসভা সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি লিখেছেন, আমাদের দেশের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার জন্য অমিত শাহের এখনই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। তিনি লাগাতারভাবে দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থ হচ্ছেন। তাঁর অক্ষমতা প্রকাশ হয়ে পড়েছে। একারণেই দেশের বিশ্বাস-আস্থা চলে গিয়েছে তাঁর উপর থেকে। ভারত চায় একজন যোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যিনি আমাদের দেশের নাগরিক এবং দেশের সংহতিকে সত্যি সত্যি সুরক্ষা দিতে পারবেন।
তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হলেও দেশের প্রধান বিরোধী দল কিংবা দলনেতা রাহুল গান্ধীকে এখনও পর্যন্ত লালকেল্লার সামনে দাঁড়িয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায়নি। এনিয়েও সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরাল চর্চা চলছে যে, কেন বিস্ফোরণের পর এখনও দেশের একটিও বিরোধী দল ঘটনাস্থলের সামনের দাঁড়িয়ে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন না।
অথচ, মুম্বইতে ২৬/১১-র জঙ্গি হানার পরপরই নরেন্দ্র মোদী তাজ হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেখানেই মোদী সরাসরি পাকিস্তানের ঘাড়ে হামলার দায় চাপিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা কুড়িয়ে নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, মনমোহন সিং জাতির উদ্দেশে যা বলেছেন, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এরকম জবাব তিনি আশা করেননি। পাকিস্তান আমাদের মৎস্যজীবীদের ট্রলার ধরে নিয়ে চলে যায়, আর ফেরত দেয় না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেই ভারতীয় ট্রলারকেই তারা জঙ্গি ঢোকানোর কাজে ব্যবহার করেছে।