লোকসভায় স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের বিতর্কে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

মহুয়া মৈত্র
শেষ আপডেট: 10 March 2026 22:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla – No confidence motion) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের বিতর্কে অংশ নিয়ে পুরনো সব রাগ ঢেলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। মঙ্গলবার লোকসভায় দেওয়া বক্তৃতায় মহুয়া বলেন, “এ যেন ঈশ্বরের বিচার—যে চেয়ার আমাকে বহিষ্কার করেছিল, সেই চেয়ারের বিরুদ্ধেই আজ আমি অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনা শুরু করছি।”
বিরোধীদের পক্ষ থেকে স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। লোকসভায় মূলত এ ব্যাপারে প্রস্তাব আনে কংগ্রেস। শুরুতে তাতে সায় দেওয়ার ব্যাপারে ইতস্তত করেছিল তৃণমূল। কিন্তু পরে বিরোধী ঐক্যের কথা মাথায় রেখে স্রোতে গা ভাসায়। এই প্রস্তাবে সমর্থন করেন ১১৮ জন সাংসদ।
‘কর্মফল থেকে পালানো যায় না’
বক্তৃতার শুরুতেই মহুয়া বলেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে ‘উইচ-হান্ট’ করা হয়েছিল এবং যে এথিক্স কমিটি তাঁকে বহিষ্কার করেছিল তার সেই ক্ষমতাই ছিল না। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয়নি। লোকসভা থেকে বহিষ্কার করলেও মহুয়া ফের কৃষ্ণনগর থেকে জিতে সাংসদ হয়েছেন। তার পর টেবিল উল্টে দেওয়ার জন্য যেন তক্কে তক্কে ছিলেন। মঙ্গলবার সেই সুযোগ এসে যায়। মহুয়ার কথায়,“কর্মফল থেকে কেউ পালাতে পারে না। আজ সেই স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনাই আমি শুরু করছি।”
স্পিকারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ
লোকসভায় তাঁর বক্তৃতায় মহুয়া অভিযোগ করেন, স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধী দলের সাংসদদের কথা বলতে দেন না এবং বারবার তাঁদের মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি সংসদ টিভিতেও বিরোধীদের বক্তব্য দেখানো হয় না বলে মহুয়া দাবি করেন।
তিনি বলেন,“স্পিকার বারবার সংসদের মর্যাদার কথা বলেন। কিন্তু এখন এমন অবস্থা হয়েছে—স্পিকার সংসদে ঢুকলেই মর্যাদা যেন বেরিয়ে যায়।”
মানিপুর ইস্যু ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন
মহুয়া দাবি করেন, যতক্ষণ না অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়, ততক্ষণ মানিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে দেওয়া হয়নি । মহুয়া বিজেপি সাংসদ রমেশ বিধুড়ির বিতর্কিত মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর অভিযোগ, লোকসভায় অন্য এক সাংসদকে সাম্প্রদায়িক ভাষায় আক্রমণ করার পরও বিধুড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মহুয়া মৈত্র আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে একপ্রকার সার্কাসে পরিণত করা হয়েছে। স্পিকার যদি সরকারের সঙ্গে মিলিত হয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি করেন, তবে তা দেশের গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
বক্তৃতার শেষে ব্রিটিশ নেতা অলিভার ক্রমওয়েল-এর একটি বিখ্যাত উক্তি উদ্ধৃত করে মহুয়া বলেন, “আপনারা অনেক দিন ধরে এখানে বসে আছেন। ঈশ্বরের নামে বলছি—এবার বিদায় নিন।”
লোকসভায় স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বিরল ঘটনা। তবে এই বিতর্কের মাধ্যমে সংসদের কার্যপ্রণালী, বিরোধীদের বক্তব্য রাখার সুযোগ এবং গণতান্ত্রিক প্রথা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অবশ্য লোকসভায় শাসক দলের যে সংখ্যার তাকত রয়েছে তাতে আখেরে ওম বিড়লাকে সরানো সম্ভব নয়।