বিশ্বজিতের আরও দাবি, সাক্ষী হওয়ার কারণেই অতীতেও একাধিক বার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন তাঁর বাবা। কয়েক দিন আগেই তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুরও চালানো হয়েছিল।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 16 December 2025 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালি মামলার (Sandeshkhali accident) অন্যতম সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষকে ‘খতম’ করার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এবার গ্রেফতার লরির মালিক। ধৃতের নাম নজরুল শেখ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতকে এ দিন আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।
এর আগে সন্দেশখালির লরি দুর্ঘটনা মামলায় মোসলেম শেখের ছেলে গফফর শেখ, শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ (Seikh Shahjahan) রুহুল কুদ্দুস মোল্লা-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। নজরুল ধরা পড়ায় এই ঘটনায় গ্রেফতার সংখ্যা বেড়ে হল চার। এখনও চার জন পলাতক। তাদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।
পুলিশের দাবি, জেলবন্দি শেখ শাহজাহানের ‘সবুজ সংকেত’ মিলতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে তার শাগরেদরা। পরিকল্পনা ছিল, বসিরহাট আদালতে যাওয়ার পথেই ‘দুর্ঘটনার’ ছলে ভোলানাথ ঘোষকে সরিয়ে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই সম্প্রতি গোপনে বৈঠক হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, লাউখালি দিক থেকে একটি ট্রাক দুরন্ত গতিতে ছুটিয়ে ভোলানাথ ঘোষের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারার ছক কষা হয়েছিল। ওই ‘কোর টিম’-এ ছিল সিবিআই মামলার অভিযুক্ত আলিম মোল্লা, ট্রাকের বর্তমান মালিক নজরুল মোল্লা, গফফর শেখ ও আরও কয়েক জন। বসিরহাট জেলা পুলিশের বক্তব্য, ঘটনার দিন গফফর ফোন করে রুহুলকে জানায় ভোলা ঘোষ বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন, তার পরই কার্যকর হয় পরিকল্পনা।
গত বুধবার সকালে ন্যাজাটের বয়ারমারিতে একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে ভোলানাথ ঘোষের গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর ছোট ছেলে ও গাড়ির চালকের। গুরুতর জখম ভোলানাথ ঘোষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভোলানাথের বড় ছেলে বিশ্বজিৎ ঘোষ সরাসরি শেখ শাহজাহানের দিকেই আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। লরিটি একবার নয়, পরপর তিন বার ধাক্কা মেরেছিল। দুর্ঘটনার পর চালক আগে থেকে অপেক্ষমান একটি বাইকে চেপে পালিয়ে যায়। সবটাই আগে থেকে সাজানো ছিল।”
বিশ্বজিতের আরও দাবি, সাক্ষী হওয়ার কারণেই অতীতেও একাধিক বার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন তাঁর বাবা। কয়েক দিন আগেই তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুরও চালানো হয়েছিল।