ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ভোলার ছোট ছেলে এবং গাড়ির ড্রাইভারের। গুরুতর জখম ভোলা ঘোষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 13:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিতে ভোলানাথ ঘোষকে খুনের পরিকল্পনার জাল ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। বসিরহাট জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ষড়যন্ত্রে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মোসলেম শেখের ছেলে গফফর শেখ এবং শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রুহুল কুদ্দুস মোল্লাকে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অধরা আরও পাঁচ অভিযুক্ত।
পুলিশের দাবি, জেলবন্দি শেখ শাহজাহানের ‘সবুজ সংকেত’ মিলতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে তার শাগরেদরা। পরিকল্পনা করা হয়, বসিরহাট আদালতে যাওয়ার পথেই ‘খতম’ করা হবে সন্দেশখালি মামলার অন্যতম সাক্ষী ভোলানাথ ঘোষকে। সেই অনুযায়ী বুধবারের তিন দিন আগে গোপনে বৈঠক বসে। ফের মঙ্গলবার রাতে সরবেড়িয়ার একটি গোপন ডেরায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, লাউখালির দিক থেকে একটি ট্রাক দুরন্ত গতিতে ছুটিয়ে ভোলানাথ ঘোষের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারার ছক কষা হয়েছিল। ওই ‘কোর টিম’-এ ছিল সিবিআই মামলায় অভিযুক্ত আলিম মোল্লা, ট্রাকের বর্তমান মালিক নজরুল মোল্লা, গফফর শেখ ও আরও কয়েক জন। বসিরহাট জেলা পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন গফফর ফোন করে রুহুলকে জানায় যে ভোলা ঘোষ বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন—এর পরেই পরিকল্পনা কার্যকর হয়।
বুধবার সকালে ন্যাজাটের বয়ারমারিতে একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পড়ে ভোলানাথ ঘোষের গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর ছোট ছেলে ও গাড়ির চালকের। গুরুতর জখম ভোলানাথ ঘোষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভোলানাথের বড় ছেলে বিশ্বজিৎ ঘোষ সরাসরি শেখ শাহজাহানের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “এটা নিছক দুর্ঘটনা নয়। লরিটি একবার নয়, পরপর তিন বার ধাক্কা মেরেছিল। দুর্ঘটনার পর চালক আগে থেকে অপেক্ষমান বাইকে চেপে পালিয়ে যায়। সবটাই আগে থেকে সাজানো ছিল।”
বিশ্বজিতের দাবি, সাক্ষী হওয়ায় অতীতেও একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন তাঁর বাবা। এমনকি কয়েক দিন আগেই তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের শনিবার আদালতে হাজির করিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে।