শনিবার রাতে বাংলায় এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার দুপুরে দলের সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য রাখার কথা তাঁর। তিনিও যেন প্রধানমন্ত্রীর মত সংকীর্ণ রাজনীতি না করেন, এদিন সকালে এক ভিডিও বার্তায় এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

অমিত শাহ ও কুণাল ঘোষ
শেষ আপডেট: 1 June 2025 10:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বৃহস্পতিবার বাংলা সফরে এসে রাজ্যের পাঁচ সংকটের কথা উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। জবাবে মোদীকে টিভি চ্যানেলের শোয়ে মুখোমুখি বসার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সেনাবাহিনীর অপারেশন সিঁদুর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনীতি করার অভিযোগও এনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার রাতে বাংলায় এসেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার দুপুরে দলের সাংগঠনিক সভায় বক্তব্য রাখার কথা তাঁর। তিনিও যেন প্রধানমন্ত্রীর মত সংকীর্ণ রাজনীতি না করেন, এদিন সকালে এক ভিডিও বার্তায় এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
কুণাল বলেন,"অমিত শাহ আর কিছুক্ষণ পরেই ভাষণ দেবেন। ওঁদের দল, ওঁরা কী করবে, তা ওদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য কোনও রকম অপচেষ্টা করবেন না। আর বাংলার যে বকেয়া, সেগুলো বাংলাকে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার দিয়ে দিক এবং মুখ্যমন্ত্রী দেশের স্বার্থে যে সৌজন্যের রাজনীতি করছেন, অন্তত সেটা আপনারাও করুন।"
কুণালের কথায়, 'যখন লড়াইটা আতঙ্কবাদের বিরুদ্ধে। যে সময় আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ সফরে রয়েছেন, তাছাড়া দেশের কথা ভেবে মুখ্যমন্ত্রী বলছেন কেন্দ্রের পাশে থাকবেন, তখন কেমন অসৌজন্যের পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় এসে সংকীর্ণ রাজনীতি করে গেলেন। বাংলার পাওনা দেননি। বাংলায় সস্তার রাজনীতি করেছেন। সবচেয়ে বড় কথা অপারেশন সিঁদুর নিয়ে রাজনৈতিক পথ অবলম্বন করেছেন। আর এটাতেই আমাদের কড়া আপত্তি।'
একুশের বিধানসভা ভোটে বাংলায় ২০০ আসন জয়ের টার্গেট ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সে সময় ঘনঘন বাংলা সফরে আসতে দেখা গিয়েছিল মোদী-শাহকে। যদিও ৭৭ টি আসনেই থামতে হয়েছিল পদ্ম শিবিরকে। এমনকি গত লোকসভা ভোটেও বাংলায় পর্যুদস্ত হয়েছে পদ্ম শিবির। ১৮ থেকে আসন সংখ্যা কমে হয়েছে বারো। তৃণমূলের অভিযোগ ভোটের কথা মাথায় রেখেই বাংলায় আবার ডেইলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছে মোদী-শাহ।
কুণালের কথায়, লিখে রাখুন, আপনারা ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করতে পারেন। কিন্তু ২০২৬-এ চতুর্থবারের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গতবারের থেকেও বেশি আসন নিয়ে। কারণ, বাংলার কোন উপকার আপনারা করেন না। তাই বাংলার মানুষ আপনাদের খালি হাতেই ফিরিয়ে দেবে।
এখন দেখার বঙ্গ সফরে এসে মোদীর মত অমিত শাহও আক্রমণে ঝাঁঝ তীব্র করেন কি না।