ভারতের পরিবেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ বলেন, “সীমান্তপার সন্ত্রাসে সিন্ধু জলচুক্তি কার্যকর করতে সমস্যা হচ্ছে। এখানে ভারতের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে কেন?”

পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি ভারতের
শেষ আপডেট: 1 June 2025 09:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা সীমান্তপার সন্ত্রাসে সিন্ধু জলচুক্তি কার্যকর করতে সমস্যা হচ্ছে। অযথা ভারতের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলে পাকিস্তানকে দোষ না চাপানোর হুঁশিয়ারি দিল ভারত। তাজিকিস্তানের দুশানবে-তে রাষ্ট্রপুঞ্জ আয়োজিত হিমবাহ রক্ষাবিষয়ক প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শুক্রবার এই বার্তা দেন ভারতের পরিবেশ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিংহ।
মন্ত্রী বলেন, “চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে পরিস্থিতির ভিতরে মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সবচেয়ে বড় কথা সীমান্তপারের লাগাতার সন্ত্রাস—সব মিলিয়ে এই চুক্তির দায়বদ্ধতার পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। সীমান্তপার সন্ত্রাসে সিন্ধু জলচুক্তি কার্যকর করতে সমস্যা হচ্ছে। এখানে ভারতের উপর দোষ চাপানো হচ্ছে কেন?”
তিনি আরও বলেন, সিন্ধু জলচুক্তির মূল প্রস্তাবনায় ‘বন্ধুত্ব ও শুভেচ্ছার’ আবহে চুক্তি স্বাক্ষরের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাস বন্ধ না হওয়ায় সেই বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে চুক্তি রক্ষা করা যাচ্ছে না। তাঁর কটাক্ষ, “পাকিস্তান নিজেই যখন এই চুক্তির মৌলিক আদর্শ লঙ্ঘন করছে, তখন ভারতের উপর দোষ চাপানোর কোনও অধিকার তাদের নেই।”
তাজিকিস্তানের এই সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ভারতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “ভারতের একতরফা সিদ্ধান্ত শুধু বেআইনি নয়, এই চুক্তিকে ঝুলিয়ে রেখে তারা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করছে। এটা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।”
গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেয় ভারত। তার মধ্যেই ছিল সিন্ধু জলচুক্তি কার্যকর রাখা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত।
উল্লেখ্য, ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ছিল বিশ্বব্যাঙ্ক। সিন্ধু নদীব্যবস্থার জল ভাগাভাগি নিয়ে এই চুক্তি গঠিত হয়। তিন দিনের রাষ্ট্রপুঞ্জ সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল হিমবাহ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং জল সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গড়ে তোলা। ৮০টি রাষ্ট্রপুঞ্জ সদস্য দেশ এবং ৭০টি আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রায় ২,৫০০ প্রতিনিধি এই সম্মেলনে অংশ নেন।