প্রতিবছরের মতো এবারও নবমীর দিন সকালে ভক্তদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল এই বিশেষ কুমারী পুজো। বহু প্রাচীন সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অধিষ্ঠাতা দেবীকে অত্যন্ত জাগ্রত দেবী হিসেবেই মানেন গোটা পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দারা।

শেষ আপডেট: 1 October 2025 16:49
বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে রীতি মেনে নবমীতে হল কুমারী পুজো। দুর্গাপুজোর অন্যতম আচার কুমারী পুজো। প্রাচীন রীতিনীতি মেনে নবমীর দিন বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এই আচার পালিত হয়। নিয়ম অনুসারে ন’জন কুমারীকে দেবী দুর্গার ন’টি রূপে পুজো করা হয় এখানে। ১৩ বছর পর্যন্ত বয়সের নাবালিকাদের উমা, মালিনী, কুজ্জ্বিকা, সুভাগা, কালসন্দর্ভা সহ দেবীর বিভিন্ন রূপে পুজো করার প্রথা রয়েছে। দেবী সর্বমঙ্গলা অষ্টাদশভুজা রূপে বিরাজমান।
প্রতিবছরের মতো এবারও নবমীর দিন সকালে ভক্তদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হল এই বিশেষ কুমারী পুজো। বহু প্রাচীন সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অধিষ্ঠাতা দেবীকে অত্যন্ত জাগ্রত দেবী হিসেবেই মানেন গোটা পূর্ব বর্ধমানের বাসিন্দারা।
কথিত আছে, রাজা তেজচন্দের আমলে এই মন্দির নির্মাণ হয়েছিল। মন্দির ঘিরে অনেক উপকথা আছে। চুনুরী বাড়ির মেয়েরা নাকি দেবীর পাষাণপ্রতিমায় গুগলি থেতো করতেন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেবীকে এই প্রাচীন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেবী দুর্গা এখানে সর্বমঙ্গলা রূপে পুজিতা হন। সারাবছরই তিনি বিরাজ করেন। পুজোর চারদিন ষোড়শোপচারে দেবী আরাধনা হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। আগে মহিষ ও পাঁঠা বলি হত। এখন বলিপ্রথা বন্ধ হয়েছে। আগে সন্ধিপুজোর মহালগ্নে কামান দাগা হত। কিন্তু ১৯৯৭-এ বিস্ফোরণের পর থেকে সেই প্রথা বন্ধ হয়ে যায়। নবমীতে কয়েক হাজার মানুষকে ভোগ বিলি করা হয়। পুজোর দিনগুলোতে কয়েক হাজার ভক্তদের সমাগম হয়।
প্রথা মেনে মহালয়ার পরদিন সকালে ঘটত্তোলনের মধ্য দিয়ে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পুজো শুরু হয়। প্রতিপদে সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ঘট স্থাপন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে বর্ধমানে। রীতি মেনে প্রতিপদের দিন বর্ধমানের রাজাদের খনন করা কৃষ্ণসায়র থেকে জল ভরা হয় ঘটে। প্রথা অনুযায়ী, সেই ঘট সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে স্থাপন করা হয়। দেবীকে সেদিন পরানো হয় রাজবেশ।
বর্ধমানের রাজারা জন্মসূত্রে ছিলেন পাঞ্জাবী। পরে বধূ হিসেবে নানা রাজ্যের মেয়েরা এসেছেন পরিবারে। নানা সংস্কৃতি, লোকাচারের মিশেল হয়েছে এখানে। বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার মূর্তি, মন্দিরের থেকেও প্রাচীন। কারও মতে এর বয়স প্রায় হাজার বছর, আবার অনেকে বলেন দুহাজার বছরেরও পুরনো। কষ্টিপাথরে নির্মিত এই অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী মহিষামর্দিনীর মূর্তির দৈর্ঘ্য বারো ইঞ্চি, প্রস্থ আট ইঞ্চি। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৯৫৯ সালে তৎকালীন বর্ধমান মহারাজা উদয় চাঁদ এই মন্দির পরিচালনার জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করেন। বর্তমানে প্রশাসনিক আধিকারিকরাও এই বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মন্দিরের যাবতীয় দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।