তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মূল অভিযুক্ত দেশরাজ আদতে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে থাকতেন। কৃষ্ণনগরে কলেজছাত্রীকে খুনের পর সে নিজের রাজ্যে পালিয়ে যায় বলে অনুমান পুলিশের।

কৃষ্ণনগর খুনে গ্রেফতার ১
শেষ আপডেট: 31 August 2025 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষ্ণনগরের কলেজছাত্রী ঈশিতা মল্লিক খুনের (Krishnanagar Murder Case) ঘটনায় নয়া মোড়। অভিযুক্ত দেশরাজ সিংয়ের মামা কুলদীপ সিংকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) দেওরিয়া থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, কুলদীপকে খুনের ষড়যন্ত্রে সাহায্য করা, আশ্রয় দেওয়া এবং তথ্য গোপন করার মতো একাধিক অভিযোগে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, মূল অভিযুক্ত দেশরাজ আদতে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরে থাকতেন। কৃষ্ণনগরে কলেজছাত্রীকে খুনের পর সে নিজের রাজ্যে পালিয়ে যায় বলে অনুমান পুলিশের। অভিযুক্তকে ধরতে কৃষ্ণনগর থানার বিশেষ দল উত্তরপ্রদেশের তিনটি আলাদা ঠিকানায় অভিযান চালায়। তল্লাশিতে দেশরাজের বাড়ি থেকে একটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দেওরিয়ার কাছাকাছি এলাকায় অভিযান চালিয়েই পুলিশ কুলদীপ সিংকে ধরে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে সম্পর্ক ভাঙতে চাইছিলেন ঈশিতা। কিন্তু দেশরাজ সেই সম্পর্কে আঁকড়ে থাকতে চাইছিলেন। বারবার হুমকি দিতে থাকেন তিনি। এমনকি আত্মহত্যার চেষ্টা করে তার ভিডিও ঈশিতাকে পাঠায় বলে উঠে আসে তদন্তে, তবু মেয়েটি নরম হননি। এরপরই খুনের ছক কষে বলে মনে করছে পুলিশ।
অভিযুক্ত দেশরাজ তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বন্দুকের ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন, 'ডেডবডি সুন'। সেই বার্তার রহস্য আজ স্পষ্ট হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, দেশরাজের গোরক্ষপুরের খুড়তুতো ভাই নীতিন প্রতাপ সিংয়ের সঙ্গে আগে থেকেই পরিকল্পনা হয়েছিল খুনের। সব দিক খতিয়ে দেখে পুলিশ এখন আশা করছে ধৃত কুলদীপ সিংকে জেরা করলেই খুনের আসল কারণ ও পুরো ষড়যন্ত্র পরিষ্কার হয়ে উঠবে।
গত সোমবার কৃষ্ণনগরে ওই কলেজছাত্রীর বাড়িতে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দেশরাজ। পরিবারের সদস্যদের বন্দুকের ভয় দেখিয়ে দোতলায় উঠে যান। ঈশিতাকে সামনে পেয়ে পয়েন্ট ব্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করেন তাঁকে (Krishnanagar Murder Case)। ঘটনাস্থলেই তরুণীর মৃত্যু হয়।
নিহত তরুণীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন তাঁর মা ও ভাই। দেবরাজকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হলেও বন্দুকের ভয় দেখিয়ে দোতলায় উঠে যায়। তাঁদের চোখের সামনেই মেয়েকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে, তরুণীর মায়ের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তবে তাঁকে ধরার আগেই ঘটনাস্থল ছেড়ে পালায় অভিযুক্ত।