কলকাতার ব্যস্ত সকালে যখন শহর ছুটে চলে নিজের কাজের খোঁজে, তখন তিনি হাঁটেন অন্য পথে। কারও হাতে কফির কাপ, তাঁর হাতে ফুড ভ্যানের স্টিয়ারিং। গন্তব্য হাসপাতালের সামনে, আর উদ্দেশ্য একটাই — ক্ষুধার্ত মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়া। তিনি পার্থ চৌধুরী — সবার প্রিয় “হসপিটাল ম্যান”।

হসপিটাল ম্যান
শেষ আপডেট: 27 October 2025 19:08
দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ কলকাতার ব্যস্ত সকালে যখন শহর ছুটে চলে নিজের কাজের খোঁজে, তখন তিনি হাঁটেন অন্য পথে। কারও হাতে কফির কাপ, তাঁর হাতে ফুড ভ্যানের স্টিয়ারিং। গন্তব্য হাসপাতালের সামনে, আর উদ্দেশ্য একটাই — ক্ষুধার্ত মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়া। তিনি পার্থ চৌধুরী — সবার প্রিয় “হসপিটাল ম্যান”।
বছরের ৩৬৫ দিন, বৃষ্টি হোক বা রোদ, কখনো থামেন না তিনি। কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালের বাইরে প্রতিদিন সকালেই শুরু হয় এক দৃশ্য — লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রোগীর পরিজনরা। হাতে একটি ছোট্ট ফুড কার্ড, চোখে কৃতজ্ঞতার আলো। পার্থবাবু তাঁদের হাতে দেন গরম ভাত, ডাল, আলুভর্তা— কখনো মাছ, কখনো মাংস বা বিরিয়ানিও। না, এটা কোনো দানের প্রকল্প নয়; এটা তাঁর মনের তাগিদ, এক অনন্য প্রতিজ্ঞা।
এই পথচলার শুরু এক দুঃখের অভিজ্ঞতা থেকে। একসময় পার্থ চৌধুরী নিজেই ভর্তি ছিলেন সরকারি হাসপাতালে। তখন নিজের চোখে দেখেছিলেন, কেমন কষ্টে দিন কাটান রোগীর পরিজনরা— কেউ না খেয়ে, কেউ অন্ধকারে আশা খুঁজে। সেই দৃশ্যই বদলে দেয় তাঁর জীবন। তিনি ঠিক করেন, আর কেউ যেন সেই যন্ত্রণা না পায়।
মানুষের সেবা করাই তাঁর পরম ধর্ম। যতই ঝড়-ঝাপটা বা প্রতিকূলতা আসুক না কেন, তিনি একদিনও মানুষের সেবা থেকে নিজেকে বিরত রাখেননি। নিজের সামর্থ্যে শুরু করা এই কাজের সঙ্গে এখন অনেকেই যুক্ত হয়েছেন। অনেকে এগিয়ে এসে দেন সহযোগিতার হাত— কেউ খাবার দেন, কেউ অর্থ বা উপকরণে সহায়তা করেন। কিন্তু সবার মাঝে পার্থ চৌধুরীই সেই কেন্দ্রবিন্দু, যার চারপাশে ঘুরে বেড়ায় এক অনন্য মানবতার গল্প।
পেশায় পুলকার চালক, কিন্তু পরিচয়ে তিনি এক সেবক, এক আলোকবর্তিকা। রোগীর পরিজনদের কছে তিনি আজ “ভগবান”।
এই শহর, যেখানে মানুষ নিজের জীবনেই ব্যস্ত, সেখানে পার্থ চৌধুরী মনে করিয়ে দেন— মানুষ থাকা মানে শুধু বাঁচা নয়, অন্যের পাশে দাঁড়ানোও। তিনি আজ এক অনুপ্রেরণা, এক প্রতীক কলকাতার হৃদয়ে জেগে থাকা আলো, সকলের প্রিয় “হসপিটাল ম্যান”।