Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

সোমবারের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতার বইপাড়া, কয়েক কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

পুজোর মুখে মাথায় হাত কলেজ স্ট্রিটের অগনিত প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার ও বই ব্যবসায়ীদের।  

সোমবারের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতার বইপাড়া, কয়েক কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের

শ্যামশ্রী দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 23 September 2025 17:03

শ্যামশ্রী দাশগুপ্ত

সোমবারের মেঘভাঙা বৃষ্টিতে ভাসল বইপাড়াও। কয়েক কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা। পুজোর মুখে মাথায় হাত কলেজ স্ট্রিটের অগনিত প্রকাশনা সংস্থার কর্ণধার ও বই ব্যবসায়ীদের।  

জলে ডুবেছে কলেজ স্ট্রিট-সূর্যসেন স্ট্রিটের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ছোট-বড় অসংখ্য প্রকাশনা সংস্থার দফতর রয়েছে ছড়িয়ে। পুজোর মুখে বইয়ের স্তূপ সেখানে। এখন সবই জলের নীচে। কলেজস্ট্রিটের বর্ণপরিচয় মার্কেটেও জল। একতলায় যাঁদের দোকান, জলে ডুবেছে তাঁদের সমস্ত বই। কী করে ঘুরে দাঁড়াবেন বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। প্রকাশনা সংস্থা মান্দাসের কর্ণধার সুকল্প চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আগে থেকে তো কোনও পূর্বাভাস ছিল না। বুঝব কী করে এক রাতে এমন বৃষ্টি হবে আর সমস্ত ডুববে। আগে থেকে যদি আন্দাজ পেতাম, তাহলেও কিছু বই অন্তত বাঁচানো যেত। আমার তো একতলায় বেশিরভাগ বই রাখা। এখন জলও নামেনি। তাই ঠিক কোন পরিস্থিতির মুখে পড়ব বুঝতে পারছি না।’’

সুকল্পর কথাই ফিরছে বইপাড়ার ব্যবসায়ীদের মুখে মুখে। আগে থেকে যদি একটু আন্দাজ পেতেন তাহলে কিছু বই সরানোর সুযোগটুকু পেতেন। সোমবার সন্ধেয় দোকান বন্ধ করে আসার সময়েও ভাবতে পারেননি এত বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

বইপাড়া একনামে চেনে প্রবীণ প্রকাশক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়কে। পত্রভারতীর কর্ণধার ত্রিদিববাবুর দাবি, সোমবার রাতের বৃষ্টিতে কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে কলকাতার বইপাড়ার। তিনি বলেন,‘‘আমাদের প্রকাশনা সংস্থার প্রচুর বই নষ্ট হল মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে। এমন পরিস্থিতি হবে বুঝতেই পারিনি। আমার প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার বই নষ্ট হয়েছে। গোটা বই পাড়ার হিসেব ধরলে এই ক্ষতির অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা।’’

কলকাতা পুরসভার ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ত্রিদিববাবু। আমহার্স্টস্ট্রিট থানার ঠিক পিছনেই তাঁর বাড়ি। প্রকাশনা সংস্থার ক্ষতি তো আছেই, মঙ্গলবার দিনভরের অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে ভয়াবহ। বললেন, ‘‘সকাল থেকে বাড়িতে আলো নেই। খাওয়ার জল নেই। পাম্প ডুবে যাওয়ায় জল তোলা যাচ্ছে না। বাড়িতে আমার ১১ মাসের নাতিকে নিয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় কাটাচ্ছি। কোনও জনপ্রতিনিধিকে এখনও দেখতে পাইনি।’’

পুজোর মুখে বলেই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের। দে’জ প্রকাশনা সংস্থার অন্যতম কর্ণধার শুভঙ্কর  (অপু) দে জানান, পুজোর সময় প্রতিবছরই প্রচুর মানুষ বইপাড়ায় আসেন। বই কেনেন। প্রবাসীরাও আসেন। তাই বইয়ের একটা ভাল স্টক থাকে। পুজোবার্ষিকীও স্টক করা হয়। এভাবে যে সব বই নষ্ট হবে কেউ ভাবতে পারেননি। তাঁর কথায়, ‘‘কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আমাদেরও প্রচুর বই নষ্ট হল। কী করে এই ক্ষতি সামাল দেব জানি না।’’

প্রতিবারের মতো এবারের দুর্যোগেও বইপাড়ার পাশে দাঁড়াল প্রতিক্ষণ। সামাজিক মাধ্যমে তাঁরা জানান, ‘‘পূর্বাভাস থাকলে তবুও কিছুটা প্রাকপ্রস্তুতি নেওয়া যায়, মিলেমিশে লোকসানটাকে তবু কিছুটা কমানো যায়। এবার যেমন সতীর্থদের পাশে দাঁড়ানোর কোনও সুযোগই আমরা পাইনি। তা সত্ত্বেও এখনও যদি কারও বই/কাগজ স্থানান্তরিত করার দরকার থাকে আমরা একটি জরুরি নম্বর দিয়ে রাখলাম, নির্দ্বিধায় ফোন করবেন, আধঘণ্টার মধ্যে প্রতিক্ষণ স্টোর খুলে দেওয়া হবে।’’

বিপর্যয় আসে বারবার, তবুও একসঙ্গে বেঁধে বেঁধে চলার এই মন্ত্রই বোধহয় বাঁচিয়ে রাখে কলকাতার বইপাড়াকে।


```