নবান্নের সামনে প্রতিবাদ (Nabanna Protest) অবস্থানে বসার অনুমতি চেয়ে করা মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court)। রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 27 January 2026 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্নের সামনে প্রতিবাদ (Nabanna Protest) অবস্থানে বসার অনুমতি চেয়ে করা মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court)। তবে এই মামলায় এখনও কোনও রায় দেয়নি আদালত। রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নবান্নের সামনে অবস্থানে বসতে চান। তাঁর দাবি, মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ড নয়, সরাসরি নবান্নের গেটের সামনে বসেই তিনি প্রতিবাদ জানাতে চান। ইডির তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ ও বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদেই এই অবস্থান কর্মসূচি বলে জানান তিনি।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণ ছিল, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে নবান্ন একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল। সেখানে কর্মসূচি করতে না-দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের যে যুক্তি, তা গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করেছে আদালত।
তবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নয়, বিকল্প জায়গায় কর্মসূচির অনুমতি দেয় হাইকোর্ট। নির্দেশ অনুযায়ী, নবান্ন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে বিজেপি (BJP News) ধর্না দিতে পারবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ওই কর্মসূচি চলতে পারবে বলে জানানো হয়।
হাইকোর্ট বিজেপির ধর্নার উপর একাধিক শর্তও আরোপ করে। জানায়, কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন সর্বাধিক ৫০ জন বিধায়ক। ধর্নার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা যান চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। উসকানিমূলক বক্তব্য, গালিগালাজ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ। মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দদূষণ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মানতে হবে। কমপক্ষে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও মোবাইল নম্বর আগাম পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে বলে জানায় হাইকোর্ট।
এই নির্দেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, নবান্নের সামনে ‘বুক ফুলিয়ে’ ধর্না দিতে চান তাঁরা। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই রায়ের বিরুদ্ধেই ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিজেপি।
ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “লড়াই করব। নবান্নের পিছনে নয়, সামনে ধর্না দেব। ২০০ মিটার দূরে হলেও নবান্নের সামনে বসব— এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।” যদিও আদালতের বাকি শর্ত মানতে তাঁরা রাজি বলেও জানিয়েছেন। তিনি তখনই জানান, লাউড স্পিকার নয়, প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করা হবে এবং সময় কম হলেও নবান্নের সামনে ধর্না দেওয়া হবে।