বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে নবান্ন একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 15 January 2026 20:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্নের (Nabanna) সামনে বিজেপির মিছিল ও ধর্নার অনুমতি দিল না কলকাতা হাইকোর্ট (Kolkata High Court)। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের পর্যবেক্ষণ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করার অধিকার সকলেরই রয়েছে, তবে নবান্ন একটি উচ্চ-নিরাপত্তা অঞ্চল। সেখানে কর্মসূচি করতে না-দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশের যে যুক্তি, তা গুরুত্ব পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করেছে আদালত।
তবে পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা নয়— বিকল্প জায়গায় কর্মসূচির অনুমতি দিয়েছে হাইকোর্ট। নির্দেশ অনুযায়ী, নবান্ন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে মন্দিরতলা বাসস্ট্যান্ডে বিজেপি ধর্না দিতে পারবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ওই কর্মসূচি চলতে পারবে বলে জানানো হয়েছে।
এই নির্দেশে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য, নবান্নের সামনে ‘বুক ফুলিয়ে’ ধর্না দিতে চান তাঁরা। সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি।
হাইকোর্ট বিজেপির ধর্নার উপর একাধিক শর্তও আরোপ করেছে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন সর্বাধিক ৫০ জন বিধায়ক। ধর্নার ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত বা যান চলাচলে কোনও বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। উসকানিমূলক বক্তব্য, গালিগালাজ বা অশালীন ভাষা ব্যবহার নিষিদ্ধ। মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং শব্দদূষণ সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মানতে হবে। কমপক্ষে ১০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও মোবাইল নম্বর আগাম পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে।
ধর্নাকালীন যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার দায় এই স্বেচ্ছাসেবকদেরই নিতে হবে। ধর্না শেষ হওয়ার দু’ঘণ্টার মধ্যে স্থান পুরোপুরি খালি করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জায়গা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। কোনও অস্থায়ী কাঠামো থাকলে সেটিও সরিয়ে ফেলতে হবে।
ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “লড়াই করব। নবান্নের পিছনে নয়, সামনে ধর্না দেব। ২০০ মিটার দূরে হলেও নবান্নের সামনে বসব— এটা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার।” যদিও আদালতের বাকি শর্ত মানতে তাঁরা রাজি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, লাউড স্পিকার নয়, প্রয়োজনে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করা হবে এবং সময় কম হলেও নবান্নের সামনে ধর্না দেওয়া হবে। ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার দায়িত্ব বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ নেবেন বলেও জানান তিনি।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু দিল্লিতে তৃণমূলের সাম্প্রতিক কর্মসূচির কথাও টেনে এনেছেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরের সামনে তৃণমূল যে ভাবে ধর্না দিয়েছিল, বিজেপি তা লুকিয়ে নয়, দিনের আলোয় করতে চায়।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ জানুয়ারি নবান্নের সামনে ধর্না কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিজেপি। তার ঠিক পরের দিনই রাজ্যে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। নবান্নের সামনে কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় বিজেপির তরফে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হয়। বিজেপি নেতা ও শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতি না দেওয়ায় তাঁদের আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে।