জলাভূমি সংলগ্ন ৫০৫টি বেআইনি নির্মাণ (Illegal Building) ভাঙার কাজে রাজ্য যদি পরিকাঠামো বা পুলিশি সাহায্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে সেই কাজ করানো হবে।

কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা
শেষ আপডেট: 23 February 2026 15:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “কোর্ট রিপোর্টের ভারে ভরে গিয়েছে, কিন্তু কাজ কই?”, পূর্ব কলকাতা জলাভূমি (Wetland) এলাকায় বেআইনি নির্মাণ এবং জলা ভরাট সংক্রান্ত মামলায় সোমবার এই ভাষাতেই রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Amrita Sinha)। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, জলাভূমি সংলগ্ন ৫০৫টি বেআইনি নির্মাণ (Illegal Building) ভাঙার কাজে রাজ্য যদি পরিকাঠামো বা পুলিশি সাহায্য দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে সেই কাজ করানো হবে। এই মর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র, আবাসন এবং পরিবেশ মন্ত্রককে অবিলম্বে মামলায় যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
‘রিপোর্ট নয়, কাজ দেখতে চাই’
এদিন শুনানির শুরুতেই বিচারপতি সিনহা (Justice Amrita Sinha) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আদালতে রিপোর্টের পর রিপোর্ট জমা পড়ছে, কিন্তু বাস্তবে কাজ হওয়ার কোনও তথ্য নেই। আর রিপোর্ট নেব না, এবার হাতেনাতে কাজ দেখতে চাই।” জলাভূমি রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ‘ইস্ট কলকাতা ওয়েটল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ (EKWMA)-র পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়, তারা বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে জেলাশাসককে (DM) বারবার অনুরোধ করলেও কোনও সাহায্য মিলছে না। এমনকি চৌবাগা-সহ সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি বিদ্যুৎ সংযোগ কাটতে গিয়ে স্থানীয়দের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁদের। সেই বিক্ষোভ সামলানোর ক্ষমতা বা পরিকাঠামো— কোনওটিই ওই সংস্থার নেই।
বাহিনীকে ডাকার হুঁশিয়ারি
রাজ্যের এই ‘অসহায়তা’ শুনে বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা যদি বিক্ষোভ সামলাতে না পারেন, তবে অন্য এজেন্সিকে ডাকতে হবে। সাহায্য না পাওয়া গেলে প্যারা মিলিটারি ফোর্সের জন্য অর্ডার দেব। এছাড়া আর কিছু করার নেই।” আদালতের পর্যবেক্ষণ, বারবার নির্দেশ সত্ত্বেও জলা ভরাট রুখতে বা বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করেনি প্রশাসন।
আদালতের কড়া নির্দেশ
আগামী ১৬ মার্চ এই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন রাজ্য প্রশাসন জলাভূমি রক্ষায় ‘ফিজিক্যাল’ বা বাস্তবিক কী কাজ করল, তার উত্তর চায় আদালত। অন্যথায় বিদেশের জলাভূমির ধাঁচে এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে আইনি মহল।