দাবি করা হয়েছে, ২০১৬ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে, এবং কেন তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না, কমিশনকে তার যুক্তিও জানাতে হবে।

কলকাতা হাইকোর্ট ও চাকরিপ্রার্থী
শেষ আপডেট: 11 December 2025 13:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুল সার্ভিস কমিশনকে (SSC) ঘিরে আবার বিতর্ক। নতুন পরীক্ষার্থীদের একাংশ কলকাতা হাইকোর্টে (Kolkata High Court) আবেদন জানিয়ে দাবি করেছেন, ২০১৬ সালের মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে, এবং কেন তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে না, কমিশনকে (School Service Commission) তার যুক্তিও জানাতে হবে।
এই আবেদনের জেরে আদালতে বুধবার শুরু হয় তীব্র সওয়াল–জবাব (Kolkata High Court Hearing)। শুনানিতে উঠে আসে, অভিযোগের তালিকায় থাকা বহু প্রার্থী তৃতীয় কাউন্সেলিং-এর পরে নিয়োগ পেয়েছেন, এবং বর্তমানে তাঁরা ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যোগ্য কর্মী হিসেবেই কাজ করছেন।
অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, তৃতীয় কাউন্সেলিং-পর্বের নিয়োগই বেআইনি। তাই ওই নিয়োগপ্রাপ্তদের বক্তব্য না শুনে কোনও নির্দেশ দেওয়া উচিত নয়। ফলে নিয়োগপ্রাপ্তরাই আদালতের কাছে পৃথকভাবে আবেদন করেন মামলায় যুক্ত হওয়ার জন্য।
বিচারপতি অমৃতা সিনহা (Justice Amrita Sinha) তাঁদের আবেদন গ্রহণ করে মামলায় অন্তর্ভুক্তির অনুমতি দেন।
‘প্রথমে ঠিক হোক কোন প্যানেল বৈধ’
যোগ্য প্রার্থীদের পক্ষের আইনজীবী আশিসকুমার চৌধুরী জানান, হাইকোর্টের (High Court) নির্দেশ মেনেই অনেক প্রার্থী নিয়োগ পেয়েছেন। তাই প্রথমে কোন প্যানেল বৈধ, তা নির্ধারণ করাই জরুরি। তাঁর বক্তব্য, “তৃতীয় কাউন্সেলিং-এর পরে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন, তাঁরা সবাই যে অযোগ্য— এ দাবি ঠিক নয়।”
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে জানান, “থার্ড কাউন্সেলিং-এর পর থেকেই আমরা তালিকা দিচ্ছি। প্যানেলের মেয়াদ তো ২০১৯-এর ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে।” বিচারপতির প্রশ্ন, “আপনারা সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে চ্যালেঞ্জ করছেন না কেন?” উত্তরে কল্যাণবাবুর বক্তব্য, “এই মামলায় আবেদনকারী কর্মরত। তিনি যোগ্য।”
তালিকা সিল করা খামে জমা, জানুয়ারি শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের সম্ভাবনা
কমিশনের তরফে বিতর্কিত তালিকা ইতিমধ্যেই আদালতে জমা পড়েছে। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, তালিকাটি সিল করা খামে সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষণে থাকবে হাইকোর্টে।
সব পক্ষকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে লিখিত মতামত জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির দিন ১৩ জানুয়ারি। সেদিনই হাইকোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট নির্দেশ বিবেচনা করবে।