একাদশ–দ্বাদশ স্তরে সংশোধিত তালিকায় ৬৯টি পদ কমে যাওয়ায় চাকরি–প্রার্থীদের কাছ একটা আশা ছিল যে, নবম–দশমে অন্তত শূন্যপদের সংখ্যা কিছুটা বাড়বে। কিন্তু তা হয়নি।

শেষ আপডেট: 4 December 2025 22:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবম–দশমে শেষ পর্যন্ত শূন্যপদ বাড়ল না। শিক্ষা দফতরের পাঠানো শিক্ষক নিয়োগের সংশোধিত তালিকা (SSC corrected list) আগের মতোই বহাল থাকল। সূত্রের খবর, আগামী সোমবার, অর্থাৎ, ৮ ডিসেম্বর নথি যাচাই ও ইন্টারভিউয়ের তালিকা (documents verification and interview list) প্রকাশ করতে পারে এসএসসি (SSC)।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নবম–দশমের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছিল স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBSSC)। পরীক্ষার আগে যে তালিকায় ২৩,২১২টি শূন্যপদ ঘোষণা করা হয়েছিল, সংশোধনের পরও সেই সংখ্যায় কোনও পরিবর্তন হয়নি।
এর আগে একাদশ–দ্বাদশ স্তরে সংশোধিত তালিকায় ৬৯টি পদ কমে যাওয়ায় চাকরি–প্রার্থীদের কাছ একটা আশা ছিল যে, নবম–দশমে অন্তত শূন্যপদের সংখ্যা কিছুটা বাড়বে। কিন্তু তা হয়নি। একাদশ–দ্বাদশ মিলিয়ে মোট শূন্যপদ দাঁড়িয়েছে ৩৫,৬৫৭।
নবম–দশম পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ২,৯৩,১৯২ জন, আর একাদশ–দ্বাদশে ২,২৯,৬০৬ জন। অর্থাৎ মোট ৫,২২,৭৯৮ জনের ওএমআর প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তা পরিচালনার জন্য কোনও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, এমনই ইঙ্গিত মিলছে শিক্ষা দফতর থেকে। তবে বিপুল খরচই এখন সবচেয়ে বড় বাধা - এক মাস ওয়েবসাইট খোলা রাখতে খরচ হতে পারে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা।
একাদশ–দ্বাদশের অভিজ্ঞতার পর নবম–দশমের ক্ষেত্রেও সব প্রার্থীর ওএমআর আপলোড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে খরচ সামলাতে এসএসসি-কে ফি ধার্য করার পরামর্শ দিয়েছে শিক্ষা দফতর। সিদ্ধান্ত হয়েছে, নিজের ওএমআর দেখতে কোনও ফি লাগবে না, কিন্তু অন্য কারও ওএমআর দেখতে চাইলে চার গুণ ফি দিতে হবে।
দফতরের এক কর্তার মতে, ওএমআর জমা পড়ার পর সেটি এসএসসি-র এক্তিয়ারে চলে যায়। তাই কাকে দেখানো হবে, তা কমিশনই ঠিক করবে। ক্রমাগত আদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত খরচ বাড়ায় ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প ভাবনা চলছে।
উচ্চ প্রাথমিকেও অতিরিক্ত শূন্যপদ মামলায় বড় ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। কর্মশিক্ষা এবং শারীরশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত ১৬০০ শূন্যপদ বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ওই পদগুলিতে কোনওভাবেই নিয়োগ করা যাবে না।
২০১৯ সালে প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর ২০২২-এ রাজ্য অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করেছিল। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে নতুন শূন্যপদ তৈরির কোনও বৈধতা নেই। তাই ওই ১৬০০ অতিরিক্ত পদ স্বাভাবিক ভাবেই বেআইনি বলে অভিহিত হয় আদালতের চোখে। রাজ্য সরকারের দাবি, স্কুলে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকসংখ্যার ঘাটতি পূরণ করতেই অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আইনের কাঠামো ভেঙে কোনও নতুন সুযোগ দেওয়া যাবে না।