কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট ক্যালকাটা (IIM Joka)-র বয়েজ হস্টেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের (Rape Case) অভিযোগ উঠেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 12 July 2025 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট ক্যালকাটা (IIM Joka)-র বয়েজ হস্টেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের (Rape Case) অভিযোগ উঠেছে। কসবা ল কলেজের ঘটনার পর যা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য-রাজনীতিতে। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান আইআইএম জোকার ম্যানেজমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। নির্যাতিতার অভিযোগের বয়ান অনুযায়ী যা জানা গিয়েছে তা হল, শুক্রবার সকাল প্রায় পৌনে ১১টা নাগাদ তিনি তাঁর ক্লায়েন্টের কাউন্সেলিং সেশনের জন্য আইআইএম কলকাতায় যান। গেটে ঢোকার সময় নাম এবং যোগাযোগের তথ্য রেজিস্ট্রেশন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও আইআইএম-এর গেটের কর্মীরা তাঁর কোনও কাগজপত্র দেখতে চাননি।
অভিযোগপত্রে তরুণী নাকি লিখেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী, যখন তিনি কাউন্সেলিং শুরু করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখন অভিযুক্ত তাঁকে অনুরোধ করেন হস্টেলে যেতে। কারণ দেখিয়ে বলেন, "ব্যক্তিগত পরিবেশে কাউন্সেলিং করা সুবিধাজনক হবে"।
পুলিশকে দেওয়া চিঠিতে তরুণী আরও উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্ত স্টিলের বোতল থেকে জল এবং দুপুরের খাবার হিসেবে পিৎজা খেতে দেন। সেসব খাওয়ার পর তরুণীর মাথা ঘোরার মতো অনুভব করতে থাকেন। নির্যাতিতা অভিযোগপত্রে নাকি এটাও লিখেছেন যে, শুরু থেকেই অভিযুক্ত এমন আচরণ করছিলেন, যেন মাদক জাতীয় কিছু খেয়ে আছেন। ঘরের চারিদিকে বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা লিখেছেন, দুপুরের খাবার খাওয়ার পর তাঁর বমি বমি লাগছিল। বাথরুমে যেতে চাইলেও তাঁকে যেতে দেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত তরুণীকে নাকি বলেন, তাঁর সঙ্গে কোনও মেয়েকে দেখে ফেললে সমস্যা হতে পারে।
জানা গিয়েছে বাথরুমে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে তর্ক বিতর্কের মধ্যেই হঠাৎ অভিযুক্ত ওই তরুণীর চুল টেনে ধরেন। আত্মরক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে অভিযুক্তকে সে সময় চড়ও মারেন তরুণী। কিন্তু ওই যুবক, তরুণীর গলা চেপে ধরেন এবং হাতে আঘাত করেন। তার পরের ঘটনা নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী যথেষ্ট ঝাপসা।
অভিযোগকারিণী পুলিশকে শুধু এটুকু জানিয়েছেন, তাঁর আবছা মনে আছে, অভিযুক্ত তাঁকে অশ্লীলভাবে স্পর্শ করতে শুরু করেন, পরে যৌন হেনস্থা করেন। তরুণী জানিয়েছেন, জ্ঞান ফেরার পর বুঝতে পারেন তিনি কলেজের ছেলেদের হস্টেলের বিছানায় শুয়ে আছেন।
বস্তুত, শুক্রবার প্রথমে ঠাকুরপুকুর থানায় নির্যাতিতা অভিযোগ দায়ের করতে যান। সেখানে পুলিশ তাঁকে হরিদেবপুর থানায় যেতে বলে। কারণ, আইআইএম জোকা ওই থানার অন্তর্গত। পুলিশের সহায়তাতেই শুক্রবার হরিদেবপুর খানায় গিয়ে অভিযুক্ত পড়ুয়ার নামে অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ। তার পর গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্তকে।