শনিবার দুপুরে নির্যাতিতার বাবার বক্তব্যে গোটা ঘটনায় নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

নির্যাতিতার বাবা।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোকা আইআইএম-এর বয়েজ হস্টেলে (Joka IIM case) এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। ঘটনার জেরে দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। তবে, শনিবার দুপুরে নির্যাতিতার বাবার বক্তব্যে (Victim's Father) গোটা ঘটনায় নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে নির্যাতিতার বাবা জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ন’টার কিছু পরে তিনি ফোন পান। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘‘আপনার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে, অটো থেকে পড়ে গিয়েছে। এখন এসএসকেএম হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে ভর্তি আছে।’’ পরে তিনি জানতে পারেন, হরিদেবপুর থানার পুলিশ তাঁকে হাসপাতালে এনেছে।
তাঁর আরও দাবি, বাড়ি ফেরার পরে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘মেয়ে বলেছে, কোনও ধর্ষণ হয়নি। যে ছেলেটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তার সঙ্গে কোনও সম্পর্কও নেই। পুলিশ কোথা থেকে মেয়েকে পেয়েছে, সেটাও আমাদের জানানো হয়নি।’’ একই সঙ্গে তিনি এও বলেন, "মেয়ে বাড়ি ফেরার পর থেকে ঘুমোচ্ছে, ফলে স্পষ্ট করে সব কথা হয়নি।"
তবে এও দাবি করেন, "মেয়েকে দিয়ে অভিযোগ লেখানো হয়েছে।" কারা অভিযোগ লেখাল তা অবশ্য স্পষ্ট করে বলেননি। কোনও চাপের মুখে তাঁর এই বয়ান কিনা, জানতে চাওয়া হলে পাল্টা বলেন, "কোনও চাপ নয়, মেয়ের সঙ্গে যেটুকু কথা হয়েছে তার ভিত্তিতেই বললাম। বাকি মেয়ে ঘুম থেকে উঠলে আরও কথা বলে জানব।"
কিন্তু পুলিশের দাবি, নির্যাতিতা নিজেই হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেন। তাঁর অভিযোগ, শুক্রবার দুপুরে কাউন্সেলিং-এর কথা বলে তাঁকে বয়েজ হস্টেলে ডেকে পাঠায় অভিযুক্ত ছাত্র। সেখানেই তাঁকে ঠান্ডা পানীয় ও পিৎজা দেওয়া হয়। তা খাওয়ার পর তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েন। পরে জ্ঞান ফিরলে দেখেন, তাঁর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে। প্রতিবাদ করতে গেলে তাঁকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ।
নির্যাতিতা প্রথমে ঠাকুরপুকুর থানায় যান। পরে সেখান থেকে হরিদেবপুর থানায় নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ পেয়েই রাতে আইআইএম ক্যাম্পাসে পৌঁছয় পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নামার পর বয়েজ হস্টেলের সিসিটিভি ফুটেজ ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। ছাত্রছাত্রী ও কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তবে নিরাপত্তা ঘিরেও উঠছে প্রশ্ন। অভিযোগ পত্রে নির্যাতিতা দাবি করেছেন, হস্টেলে ঢোকার সময়ে কোনও রেজিস্টারে সই করানো হয়নি তাঁকে। তাহলে কীভাবে এক ছাত্রীকে অনায়াসে ঢুকতে দেওয়া হল বয়েজ হস্টেলে? এর পিছনে নিরাপত্তার গাফিলতি, না কি সচেতন উদাসীনতা—তা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
এই বিষয়ে আইআইএম জোকার কর্মী ইউনিয়নের এক সদস্য অর্ধেন্দু মণ্ডল বলেন, ‘‘ছাত্র যদি ছাত্রীকে নিয়ে হস্টেলে ঢোকে, সেখানে কে কী বলবে!’’ তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘কোন স্টুডেন্ট কোন ঘরে ঢোকার পরে কী ঘটছে, দোষ হল সিকিউরিটির? সিকিউরিটি কি প্রতিটা স্টুডেন্টকে চেনেন?’’
তাঁর কথা থেকে আন্দাজ মিলেছে, আইআইএম জোকার হোস্টেলে তেমন কড়াকড়ি ছিল না কখনওই। যে কোনও কেউ হোস্টেলে ঢুকতে তো পারতেনই, এমনকি ছেলেদের হোস্টেলে মেয়েদের ঢোকা বা উল্টোটা—কোনওটা নিয়েই কোনও বাধা বা নিষেধাজ্ঞা ছিল না।
তারই মধ্যে নির্যাতিতার বাবার বয়ান সামনে আসার পর, অভিযোগ ঘিরে নতুন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সম্ভাব্য সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।