অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁকে ধর্ষণের সময়ে ভিডিও তোলা হয়েছিল, এবং সেই ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করারও চেষ্টা চালায় অভিযুক্তেরা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 1 July 2025 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা আইন কলেজে (Kasba Law College) গণধর্ষণের ঘটনার তদন্তে উঠে এল নতুন তথ্য। শুধু মনোজিৎ মিশ্র (Manojit Mishra) নন, নির্যাতিতার ভিডিও পাওয়া গেছে অন্য এক অভিযুক্ত প্রমিত মুখোপাধ্যায়ের ফোনেও (Mobile Video)! সূত্রের খবর এমনটাই।
নির্যাতিতা এর আগে পুলিশের কাছে অভিযোগপত্রে জানিয়েছিলেন, তাঁকে ধর্ষণের সময় ভিডিও করে রাখার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত তিন জনের মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে। তার মধ্যে মনোজিতের ফোনে পাওয়া গেঠিল সেই ফুটেজ। এবার প্রমিতের ফোনেই ওই ভিডিও রয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই প্রেক্ষিতে ধীরে ধীরে এটাই প্রমাণ হচ্ছে, নির্যাতিতা যে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ করছিলেন, তা সঠিক।
গত বুধবার কসবার ওই আইন কলেজে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পরদিন কসবা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে তিন ছাত্রকে — মনোজিৎ মিশ্র (৩১), জইব আহমেদ (১৯) এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায় (২০)। পরে গ্রেফতার করা হয় কলেজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিনাকী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অভিযোগ, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন, কিন্তু নির্যাতিতাকে বাঁচাতে কোনও পদক্ষেপ করেননি।
ঘটনার গুরুত্ব মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁকে ধর্ষণের সময়ে ভিডিও তোলা হয়েছিল, এবং সেই ভিডিও দেখিয়ে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করারও চেষ্টা চালায় অভিযুক্তরা। তদন্তকারীদের সূত্র বলছে, ওই ভিডিও এখন পুলিশের কাছে মূল প্রমাণ হিসাবে কাজ করছে।
নির্যাতিতার মেডিক্যাল পরীক্ষাও ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ২৫ জুনের পর থেকে কলেজ চত্বরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইতিমধ্যে কলেজের অস্থায়ী কর্মী ও শাসকদলের ছাত্র সংগঠনের প্রাক্তন নেতা এবং মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রকে বহিষ্কার করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। জইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়ের স্টুডেন্টশিপ বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, অভিযুক্তদের কেউই আর ওই প্রতিষ্ঠানে ফিরতে পারবে না।