কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই দুই পুলিশ আধিকারিককে সিবিআই প্রথমে সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছিল, পরে হঠাৎ চূড়ান্ত চার্জশিটে তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ
শেষ আপডেট: 25 July 2025 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় (BJP Worker Abhijit Sarkar Death Case) অভিযুক্ত দুই পুলিশ অফিসার রিনা সরকার ও দীপঙ্কর দেবনাথের জামিন মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতির সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়ালেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Justice Kalyan Banerjee)। তার জেরে মামলা থেকেই সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি।
শুক্রবার এই মামলায় রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করে আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, এই দুই পুলিশ আধিকারিককে সিবিআই প্রথমে সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছিল, পরে হঠাৎ চূড়ান্ত চার্জশিটে তাঁদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ ছাড়াই তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যা আইনসঙ্গত নয়।
বিচারপতি শুভ্রা ঘোষও (Justice Suvra Ghosh) সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “চার বছর ধরে সমন জারি হওয়া সত্ত্বেও কোনও গ্রেফতার হয়নি। হঠাৎ করে সমন জারি করে গ্রেফতার করা হল কেন?” সিবিআইয়ের আইনজীবী ময়ূখ মুখোপাধ্যায় পাল্টা সওয়ালে বলেন, অভিযুক্তরা সমনের জবাব দিয়েছিলেন এবং জামিনের আবেদন করেছিলেন, যা নিম্ন আদালত খারিজ করে। তাঁর কথায়, “এই মামলায় রক্ষকই ভক্ষক হয়ে উঠেছে। পুলিশের একাংশ ও রাজনীতির মধ্যে যোগসূত্র ছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, এটি কলকাতায় ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা, যার তদন্ত আদালতের নির্দেশে পরে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আদালতের কাছে অন্তর্বর্তী জামিনের আর্জি জানান। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, ''এই শুনানিতে সময় লাগবে, আমি আগামী ২ সপ্তাহ এখানে নেই। মামলার শুনানির জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে আদেশ দেওয়া সম্ভব নয়।'' তখনই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন করেন, অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিতে। এই কথা শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ।
সেই আর্জি তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “আমি এই ধরনের আবেদনে সাড়া দেব না। মিস্টার বন্দ্যোপাধ্যায় আপনার বক্তৃতা আর সহ্য করব না।” এরপর তিনি মামলাটি ফেরত পাঠান সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে।
জানা গেছে, বিচারপতি আগামী দুই সপ্তাহ ছুটিতে থাকায় এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এখনও স্থির হয়নি। ফলে জামিনের আর্জি নিয়েই আপাতত অনিশ্চয়তায় রইলেন রিনা সরকার ও দীপঙ্কর দেবনাথ।