আদালতের পর্যবেক্ষণ, মোটর ভেহিকল আইন ১৯৮৮ অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিশ্চিতভাবে আইনভঙ্গ প্রমাণিত হলে পুলিশ অফিসার লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। এমনকি, তখনও চালককে অস্থায়ী অনুমোদনপত্র দিতে হবে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 July 2025 20:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গাড়ির চালকদের উপর জোর করে জরিমানা আদায় নয়। কোনও লিখিত নথি ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্তও করা যাবে না। ঘটনাস্থলে চালকের কাছ থেকে লাইসেন্স নেওয়া হলে অবশ্যই দিতে হবে অস্থায়ী স্লিপ। এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে টাকা তোলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ট্রাফিক পুলিশকে (Traffic Police) এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, ট্রাফিক পুলিশ ‘সন্দেহের বশে’ কোনও চালকের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করতে পারবে না। এবং তারা কোনওভাবেই কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স সাসপেন্ড বা বাতিল করার ক্ষমতা রাখে না। এই অধিকার শুধুমাত্র রয়েছে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স কর্তৃপক্ষের।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ। হাইকোর্টের আইনজীবী শুভ্রাংশু পান্ডা তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে কলকাতায় আসার পথে খিদিরপুর রোড ও এজেসি বসু রোডের সংযোগস্থলে ট্রাফিক সার্জেন্ট পলাশ হালদারের দ্বারা আটক হন। অভিযোগ, তাঁকে নগদে ১,০০০ টাকা জরিমানা দিতে বলা হয়। শুভ্রাংশু অনলাইনে জরিমানা দিতে চাইলে সার্জেন্ট তাঁর ড্রাইভিং লাইসেন্স কেড়ে নেন। কোনও রসিদ বা অস্থায়ী অনুমোদনপত্রও দেওয়া হয়নি।
আইনজীবীর অভিযোগ, ওই সার্জেন্ট আইনবিরুদ্ধ ভাবে আচরণ করেছেন। যদিও সার্জেন্টের দাবি ছিল, গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৭৭ কিমি ছিল, যেখানে সর্বোচ্চ সীমা ৬০ কিমি। ওই মামলায় এদিন হাইকোর্ট জানায়, এমন পরিস্থিতিতেও পুলিশ কর্মী লিখিত নথি বা অস্থায়ী অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করতে পারেন না।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, মোটর ভেহিকল আইন ১৯৮৮ অনুযায়ী, শুধুমাত্র নিশ্চিতভাবে আইনভঙ্গ প্রমাণিত হলে পুলিশ অফিসার লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করতে পারেন। এমনকি, তখনও চালককে অস্থায়ী অনুমোদনপত্র দিতে হবে।
এই ঘটনায় হাইকোর্ট কড়া বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর এবং ডিজিকে এই রায়ের কপি পাঠাতে বলেছে আদালত। একই সঙ্গে সব ট্রাফিক পুলিশকে আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যকে।
বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়ের স্পষ্ট বক্তব্য, ভবিষ্যতে পুলিশকে আইন মেনে, ভদ্র এবং পেশাদার আচরণে চালকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কোনও অবস্থাতেই কাউকে হেনস্থা করা যাবে না।
তবে, যেহেতু ওই সার্জেন্ট পরে আইনজীবীর লাইসেন্স ফিরিয়ে দেন, তাই আপাতত তাঁকে কড়া শাস্তি দেওয়া হয়নি। আদালত জানিয়েছে, ভবিষ্যতের জন্য তাঁকে সতর্ক করা হচ্ছে।