শুধু চিংড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ বাকি। এইটুকু ট্র্যাক বসালেই রেল চলার মতো উপযুক্ত হয়ে উঠবে গোটা রুট।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 24 July 2025 19:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ, দক্ষিণ কলকাতা ও সল্টলেকের (New Garia-Sector Five Metro Route ) যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে পারত এই মেট্রো লাইন। কিন্তু চিংড়িঘাটায় এসে যেন অথৈ জলে পড়েছে সেই স্বপ্ন।
সূত্রের খবর, নিউ গড়িয়া-এয়ারপোর্ট মেট্রো প্রকল্পের সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে নিউ গড়িয়া পর্যন্ত ট্র্যাক ও স্টেশন তৈরির কাজ কার্যত শেষ। শুধু চিংড়িঘাটায় ৩৬৬ মিটার অংশের কাজ বাকি। এইটুকু ট্র্যাক বসালেই রেল চলার মতো উপযুক্ত হয়ে উঠবে গোটা রুট। অথচ ট্রাফিক ব্লক না মেলায় (Traffic blocks) আটকে আছে সেই কাজ।
গত ফেব্রুয়ারিতে আরভিএনএল কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের কাছে ১৫ দিনের জন্য রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ট্রাফিক বন্ধ রাখার অনুমতি চায়। অভিযোগ, তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় পাঁচ মাস, এখনও মেলেনি সম্মতি।
ট্রাফিক পুলিশের দাবি, চিংড়িঘাটায় সাবওয়ে না হলে কোনও ভাবেই ট্রাফিক ব্লক দেওয়া যাবে না। অথচ সেই সাবওয়ে তৈরির জন্য সময় লাগে কম করেও ছ’মাস, আর প্রশাসনিক স্তরে পুরো প্রক্রিয়ায় আট থেকে দশ মাস!
একাংশের বক্তব্য, রেল বিকাশ নিগম ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে সাবওয়ের খরচ বহন করবে, এই সিদ্ধান্তই হয়েছে। কিন্তু রেললাইনের কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে আর আরভিএনএল সাবওয়ের কাজে হাতই দেবে না, এই আশঙ্কা করছে পুলিশ। তাই সাবওয়ে আগে, মেট্রো পরে, এই অবস্থানে অনড় তাঁরা।
তবে এই যুক্তিকে মানতে নারাজ অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিসের এক কর্তা বলছেন, “সদিচ্ছা থাকলে মে-জুনের গরমের ছুটিতে এই কাজ করে ফেলা যেত। কিন্তু উর্ধ্বতন কর্তারা দায় এড়ানোর জন্যই বারবার ছুতো দিচ্ছেন।”
এই বিষয়ে বারবার যোগাযোগ করা হলেও ডিসি (ট্রাফিক) ওয়াই এস জগন্নাথ রাও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। অতিরিক্ত কমিশনার শুভঙ্কর সিনহা সরকার বলেন, “এ বিষয়ে যা বলার, ডিসি (ট্রাফিক) বলবেন।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চিংড়িঘাটায় এক পথচলতি দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পরে সাবওয়ে তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ, সাত বছর পর সেই সাবওয়ের জন্যই আটকে নিউ গড়িয়া-সেক্টর ফাইভ মেট্রো রুটের উদ্বোধন।
প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসনিক টানাপোড়েনে আর কতদিন আটকে থাকবে এই বহু প্রতীক্ষিত মেট্রো পরিষেবা? শহরের বুক চিরে ট্রেন ছুটবে কবে—সে উত্তর এখনও ঘনীভূত অন্ধকারেই।