অফিসার ও পুলিশকর্মীদের দুটি দলে ভাগ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং সন্দেহজনক রুটে কড়া নজরদারি শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ও নজরদারির পর অবশেষে সন্দেহভাজন একটি ধূসর রঙের গাড়ি আটক করা হয়।

ধৃত ২ যুবক
শেষ আপডেট: 20 January 2026 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওড়িশা (Odisha) থেকে কলকাতায় (Kolkata) বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাচারের (Drug Smuggle) চেষ্টা ভেস্তে দিল পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খিদিরপুর (Khiddirpore) এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১২৫ কেজি গাঁজা সহ দু’জনকে গ্রেফতার (Two People Arrested) করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া নিষিদ্ধ মাদক একটি পণ্যবাহী গাড়ির ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারে লুকিয়ে রাখা ছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, ওড়িশা থেকে একটি পণ্যবাহী গাড়িতে করে কলকাতায় গাঁজা নিয়ে আসা হচ্ছে - এমন খবর পেয়ে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়। এরপর অফিসার ও পুলিশকর্মীদের দুটি দলে ভাগ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং সন্দেহজনক রুটে কড়া নজরদারি শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা ও নজরদারির পর অবশেষে সন্দেহভাজন একটি ধূসর রঙের গাড়ি আটক করা হয়।
গাড়িটির নম্বর WB 19K 6712। সেটি তল্লাশি করে প্রথমে স্বাভাবিক কোনও অবৈধ সামগ্রী চোখে পড়েনি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের সময় চালক ও সহযাত্রীর কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপর গাড়ির ভেতর বিস্তারিত তল্লাশিতে স্ক্রু দিয়ে আটকানো একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান মেলে। সেই চেম্বার খুলতেই উদ্ধার হয় প্রায় ১২৫ কেজি গাঁজা, মোট ১২৪টি ব্লকে মোড়া অবস্থায়।
ঘটনাটি ঘটে শহরের পূর্ব প্রান্তে, খিদিরপুর রোডে এজেসি বসু রোডের সংযোগস্থলের কাছে। এলাকাটি হেস্টিংস থানার অন্তর্গত। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বৈধ কোনও কাগজপত্র বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ধৃতরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের নাম নাজিমুদ্দিন মোল্লা (২৮) এবং তাইজুল মোল্লা (২৮)। নাজিমুদ্দিন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপি থানার গাজিপুর পোস্ট অফিস এলাকার দয়ারামপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে, তাইজুল মোল্লার বাড়ি মগরাহাট থানার অন্তর্গত যুগদিয়া পোস্ট অফিস এলাকার হালদারপাড়ায়। দু’জনের বিরুদ্ধেই মাদক পাচার সংক্রান্ত একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও বড় কোনও নেটওয়ার্ক জড়িত থাকতে পারে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে গাঁজার উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু করেছে তদন্তকারীরা। পুলিশ আধিকারিকদের মতে, শহরে মাদক পাচার রুখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।