স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই খালি বাড়িটিকে একটি “অস্থায়ী মাদ্রাসা” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। পুলিশ জানায়, “সতর্কতামূলক পদক্ষেপ” হিসেবেই এই আটক।

শেষ আপডেট: 18 January 2026 23:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) বরেলি জেলার এক গ্রামে খালি বাড়িতে নমাজ পড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদগঞ্জ গ্রাম থেকে ১২ জন মুসলিম পুরুষকে নমাজ পড়ার অভিযোগে আটক করা হয়েছে (Muslim men detained for namaz in Bareilly)। একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার (UP namaz controversy) পরই ঘটনাটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মাত্রা পায়।
ভাইরাল ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ওই ফাঁকা বাড়ির ভিতরে একত্রিত হয়ে নমাজ পড়ছেন, এরপরই তৎপরতা শুরু হয় বলে দাবি প্রশাসনের (prayer without permission case)।
পুলিশ জানায়, “সতর্কতামূলক পদক্ষেপ” হিসেবেই এই আটক। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই খালি বাড়িটিকে একটি “অস্থায়ী মাদ্রাসা” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই পুলিশ সেখানে যায় এবং নামাজের জমায়েত বন্ধ করে দেয়।
আটক ১২ জনের বিরুদ্ধে শান্তিভঙ্গ সম্পর্কিত ধারায় চালান ইস্যু করা হয় এবং পরে তাঁদের আদালতে তোলা হলে জামিন পান তাঁরা। আরও তিন জনকে খুঁজছে পুলিশ, যাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পলাতক।
“অনুমতি ছাড়া নতুন কোনও ধর্মীয় কার্যকলাপ বা জমায়েত করা আইনবিরুদ্ধ। এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” এক সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থাকে এমনটাই জানিয়েছেন এসপি (দক্ষিণ) অংশিকা ভার্মা। পাশাপাশি তিনি এলাকার মানুষকে শান্তি–শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন জানান।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যে বাড়িতে নমাজ পড়া হচ্ছিল সেটি হানিফ নামে এক ব্যক্তির। ওই বাড়িটি কয়েক সপ্তাহ ধরে শুক্রবারের নমাজের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল বলে অভিযোগ। কর্তৃপক্ষ যখন লিখিত অনুমতি ও কাগজপত্র চান, কেউ তা দেখাতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজন গ্রামবাসী নিয়মিত নমাজের জমায়েতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁরাই বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নমাজ বন্ধ করে দেয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। কংগ্রেস নেতা ড. শামা মহম্মদ প্রশ্ন তোলেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। তাঁর বক্তব্য,
“বরেলিতে ১২ জন মুসলিমকে নিজেদের বাড়ির ভিতর নমাজ পড়ার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে। কোন আইনে তাঁদের গ্রেফতার করা হল? রাজ্যের সব অপরাধীকে কি গ্রেফতার করা হয়ে গিয়েছে যে, এখন নিজেদের ঘরের ভিতর নমাজ পড়াকে অপরাধ বলে তুলে ধরছে পুলিশ?”
পুলিশ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।