মাত্র ৪৫ বছর বয়সে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব নিলেন নিতিন নবীন। জে পি নাড্ডার পর এই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে বসে নতুন অধ্যায় শুরু আজ থেকেই।

নিতিন নবীন।
শেষ আপডেট: 20 January 2026 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৪৫ বছর বয়সে দেশের শাসক দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক দায়িত্ব। মঙ্গলবার থেকেই বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি (National President) পদে বসতে চলেছেন নিতিন নবীন (Nitin Naveen)। জে পি নাড্ডার (JP Nadda) পর বিজেপির এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব নিচ্ছেন তিনি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বয়সের নিরিখে বিজেপির কনিষ্ঠতম সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে নতুন নজির গড়তে চলেছেন নিতিন।
সোমবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। গত ডিসেম্বরেই তাঁকে কার্যনির্বাহী সভাপতি (Executive President) পদে বসানো হয়েছিল। দলের অন্দরমহলে তখন থেকেই স্পষ্ট ছিল, ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য নিতিন নবীনই বিজেপির বড় ভরসা। সোমবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর রিটার্নিং অফিসারকে লক্ষ্মণ (K Laxman) জানান, একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নিতিন নবীন থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগেই বঙ্গ বিজেপি (BJP West Bengal) নেতৃত্বের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ শুরু করে দেন নিতিন নবীন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর সোমবার রাতে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya), সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar), বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী (Amitava Chakraborty), সুনীল বনসল (Sunil Bansal), মঙ্গল পান্ডে (Mangal Pandey) এবং অমিত মালব্যর (Amit Malviya) সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের সংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (SIR) নিয়ে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানতে চান নিতিন নবীন। বাংলার বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election) আর কয়েক মাস দূরে থাকতেই সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে তাঁর নির্বাচন তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দলীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি মাসে বাংলায় আসতে পারেন। রাজ্য সংগঠনের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক রূপরেখা খতিয়ে দেখতে চান তিনি।
নিতিন নবীনের রাজনৈতিক পরিচয়ের নেপথ্যেও রয়েছে দীর্ঘ সংগঠনের অভিজ্ঞতা। তাঁর বাবা প্রয়াত নবীন কিশোর সিনহা (Naveen Kishore Sinha) ছিলেন বিজেপির পরিচিত নেতা। ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি এবিভিপি (ABVP)-র মাধ্যমে। সংগঠনের কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে রাজ্য রাজনীতিতে নিজের জায়গা পোক্ত করেন। ২০১০ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন। বাঁকিপুর (Bankipur) কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। তারপর থেকে ওই কেন্দ্রে ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে আসছেন তিনি।
সংগঠনের কাজ, মাঠের রাজনীতি আর কৌশলী নেতৃত্ব-এই তিনের মেলবন্ধনে নিতিন নবীনকে ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে বিজেপি। এবার সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে তাঁর কাঁধে গোটা দেশের সংগঠন সামলানোর গুরুদায়িত্ব। বয়সে তরুণ হলেও দায়িত্বের ভার যে কতটা বড়, তা ভালই জানেন এই নেতা। শপথের পর থেকে তাঁর ঠিক কী কী কাজ হয়, সেদিকে তাকিয়ে সকলে।