অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ নিউ বালিগঞ্জ রোডে দাঁড়িয়েছিলেন ওই তরুণী। সেই সময় একটি কালো রঙের চারচাকা গাড়ি এসে তাঁর সামনে থামে। গাড়িতে থাকা কয়েক জন যুবক তাঁকে জোর করে ভিতরে তোলে বলে অভিযোগ। তরুণীর দাবি, চলন্ত গাড়ির মধ্যেই তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 February 2026 23:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা এলাকায় গাড়িতে জোর করে তুলে এক তরুণীকে শ্লীলতাহানির (Kasba Molestation Incident) অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটনার পর শনিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরেই সোমবার রাতে শহরের একটি এয়ারবিএনবি (Kolkata Airbnb) অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তিন যুবককে গ্রেফতার (Kasba Incident Arrest) করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৩৩, কালিকাপুর মেন রোডের একটি ভাড়াবাড়ি থেকে ধরা পড়ে অভিযুক্তরা। ধৃতদের নাম আকাশ সিং (২১), রাহুল শ’ (২১) এবং আদিত্য গিরি (২১)। প্রথম দু’জনের বাড়ি কসবাতেই, বেডিয়াডাঙা এলাকায়। তৃতীয় জনের বাড়ি বিহারের ছাপড়া জেলার খালপুরা গ্রামে।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ নিউ বালিগঞ্জ রোডে দাঁড়িয়েছিলেন ওই তরুণী। সেই সময় একটি কালো রঙের চারচাকা গাড়ি এসে তাঁর সামনে থামে। গাড়িতে থাকা কয়েক জন যুবক তাঁকে জোর করে ভিতরে তোলে বলে অভিযোগ। তরুণীর দাবি, চলন্ত গাড়ির মধ্যেই তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সেদিন মাসির বাড়ি থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন তিনি। একটি ক্যাব ভাড়া করে কসবায় জাহাজবাড়ি এলাকায় নামেন। অভিযোগ, সেখানে স্থানীয় দুই যুবক আকাশ সিং ও আরিয়ান সিং তাঁকে ডাকাডাকি শুরু করে। কথা কাটাকাটির মাঝেই তাঁকে গাড়িতে তুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার আরও দাবি, তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রের খবর, গাড়ির ভিতরে তাঁকে যৌন নিগ্রহ করা হয়। পরে আনন্দপুর এলাকায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং তখন তাঁর মোবাইল ফেরত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখান থেকে এক বন্ধুকে ফোন করে গোটা ঘটনা জানান তিনি। শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় প্রথমে বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে কসবা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার বয়ানের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত চলবে আইনানুগ পথে।
এদিকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ সামনে আসতেই অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কিছু বাসিন্দা এবং নির্যাতিতার পরিবারের বিরুদ্ধে এই ভাঙচুরের অভিযোগ করা হয়েছে।