প্রশাসন ইতিমধ্যেই সইফুল্লার বদলে যাওয়া চেহারার দুটি আলাদা পোস্টার প্রকাশ করেছে, যাতে স্থানীয় মানুষ তাঁকে চিনতে পারেন।

শেষ আপডেট: 16 February 2026 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিরাপত্তাবাহিনীর জাল ক্রমশ শক্ত হওয়ায় ধরা পড়া এড়াতে একের পর এক ছদ্মবেশ নিচ্ছে জইশ-এ-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed)–এর কমান্ডার সইফুদল্লা (Saifullah)। গোয়েন্দা সূত্রে জানা যাচ্ছে, তার পরিচিত 'ট্রেডমার্ক' ঘন দাড়িও আর নেই। যাতে চেনা কঠিন হয়, তাই দাড়ি কেটে ফেলেছে সইফুল্লা। শুধু তাই নয় মাথাও মুড়িয়ে ফেলেছে সে (Jaish commander Saifullah manhunt)।
মহিলার পোশাক, বোরখা - পালানোর নতুন ছক
ডোডার সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ সন্দীপ মেহতা জানিয়েছেন, ছদ্মবেশে (Jaish e Mohammed commander disguise) এলাকা ছাড়ার পরিকল্পনা সফল করতে সইফুল্লা মহিলাদের পোশাক ও বোরখাও জোগাড় করেছে বলে তথ্য মিলেছে।
প্রশাসন ইতিমধ্যেই সইফুল্লার বদলে যাওয়া চেহারার দুটি আলাদা পোস্টার প্রকাশ করেছে, যাতে স্থানীয় মানুষ তাঁকে চিনতে পারেন।
‘গুরু’ সেজে গ্রামবাসীর আস্থা কাজে লাগানোর অভিযোগ
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, সইফুল্লার সবচেয়ে বিপজ্জনক কৌশল হল নিজেকে আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে পরিচয় দেওয়া। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সে আশ্রয় ও রসদের জোগান নিশ্চিত করতে চাইছে। কিছু জায়গায় স্থানীয়দের একাংশের কাছে সে নাকি ‘সম্মানিত ধর্মগুরু’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন বলে অভিযোগ (Saifullah Poses As Guru To Evade Capture)।
পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে, কোথাও সন্দেহজনক কাউকে দেখলে বা সইফুল্লার সম্পর্কে কোনও তথ্য পেলে দ্রুত জানাতে হবে।
দুই মাস ধরে তল্লাশি, পাহাড় চষে বেড়াচ্ছে বাহিনী
গত দু’মাস ধরে নিরাপত্তাবাহিনী কিশতওয়ার (Kishtwar) ও ডোডা (Doda)–র দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে। কঠিন আবহাওয়া সত্ত্বেও অভিযান চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে।
পালানোর জন্য সইফুল্লার তাড়াহুড়ো আরও বেড়েছে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আদিল নিহত হওয়ার পর। গত দুই বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করছিল তারা। নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কিশতওয়ারের ছাত্রু এলাকায় নিহত হয় আদিল।
এরপর আরও বড় ধাক্কা লাগে ১৯ জানুয়ারি, যখন নিরাপত্তাবাহিনী সইফুল্লার গোপন আস্তানা ভেঙে দেয়। প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir)–এর দুর্গম পাহাড়ে তৈরি ছিল ওই আস্তানা। কার্গিলের যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত বাঙ্কারের আদলে শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে শীতকাল কাটানোর জন্য মজুত রসদও পাওয়া যায়। এই ঘাঁটি বহু মাস ধরে সইফুল্লা ও তার সঙ্গীদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছিল। সেটি ভেঙে দেওয়ার পর থেকেই সে নিরাপদ জায়গায় পালানোর মরিয়া চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এখন সইফুল্লা আত্মগোপনে রয়েছে এবং খুব কমই বাইরে বেরোচ্ছে বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি।
এদিকে কিশতওয়ার ও ডোডার দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে নিরাপত্তাবাহিনী অভিযান আরও জোরদার করেছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আতঙ্ক দূর করতে সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।