গত বছর ৮ অক্টোবর জইশ নেতা এবং জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত জঙ্গি মাসুদ আজহার (JeM chief Masood Azhar) 'জামাত-উল-মুমিনাত' নামের নারী জঙ্গি শাখা তৈরি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

দিল্লি বিস্ফোরণে জইশ যোগ
শেষ আপডেট: 12 February 2026 13:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে (UN report)। যেখানে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) এখনও সক্রিয় এবং ভারতের মাটিতে একাধিক হামলার সঙ্গে তাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গত বছর দিল্লির লালকেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast)। পাকিস্তান যদিও বারবার বলেছে যে জইশ-সহ নিষিদ্ধ সংগঠনগুলি আর সক্রিয় নয়, কিন্তু জাতিসংঘের রিপোর্টে পরিস্থিতির ভিন্ন ছবি ফুটে উঠেছে।
জাতিসংঘের অ্যানালিটিকাল সাপোর্ট ও স্যাংশন মনিটরিং টিমের (UN Analytical Support and Sanctions Monitoring Team) ৩৭তম রিপোর্টে জানানো হয়েছে, একটি সদস্য দেশ (নাম প্রকাশ করা হয়নি) তাদের কাছে তথ্য দিয়েছে যে জইশ একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গত ১০ নভেম্বরের লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনাও, যাতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সংগঠনটি এখনও জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে।
রিপোর্টে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। গত বছর ৮ অক্টোবর জইশ নেতা এবং জাতিসঙ্ঘ ঘোষিত জঙ্গি মাসুদ আজহার (JeM chief Masood Azhar) 'জামাত-উল-মুমিনাত' নামের নারী জঙ্গি শাখা তৈরি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই মহিলা শাখা জাতিসংঘের তালিকাভুক্ত নয়, তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটি জঙ্গি কার্যকলাপকে সমর্থন করার জন্য গঠিত।
তবে বিভিন্ন দেশের মতামতের মধ্যে পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে। যেখানে এক দেশ বলছে জইশ সক্রিয়, সেখানে আরেক দেশ দাবি করেছে সংগঠনটি কার্যত নিষ্ক্রিয়। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে জইশ ও লস্কর-ই-তইবা (LeT) মতো নিষিদ্ধ সংগঠনগুলো আর কাজ করছে না।
রিপোর্টে কাশ্মীর উপত্যকায় চলতি বছরের বিভিন্ন ঘটনারও উল্লেখ আছে। জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাম হামলায় (Pahalgam terror attack) ২৬ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়, যার দায় স্বীকার করেছিল লস্কর-ই-তইবার ঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)। পরে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটির উপর পাল্টা আঘাত হানে।
লালকেল্লার বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast) ঘটনাটি শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এনআইএ। এর আগে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তদন্তে ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর (White Collar Terror Module) সন্ধান পায়, যার যোগ ছিল জইশ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে। আটক করা হয়েছে মোট ৯ জনকে, এদের মধ্যে তিনজন ডাক্তারও রয়েছেন, যারা নেটওয়ার্ককে সাহায্য করতেন বলে সন্দেহ।
তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণকারী উমর-উন-নবীকে আত্মঘাতী হামলার কথা বলতে দেখা যায়। এতে স্পষ্ট হয়, হামলাটি কোনও একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রের অংশ।